মুন ক্যাম্পে ৪২ শিশু-কিশোর
টেলিস্কোপে চাঁদ দেখে মহাকাশ শিখল শিশুরা
- ৩৫ স্কুলের ৪২ শিশু-কিশোর অংশ নেয়
- হাতে-কলমে মহাকাশবিজ্ঞান শেখার আয়োজন
- টেলিস্কোপে চাঁদ পর্যবেক্ষণ ও চন্দ্রযান নির্মাণ
টেলিস্কোপে চাঁদ পর্যবেক্ষণ, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বোঝা এবং নিজের হাতে চন্দ্রযানের মডেল তৈরি—এমন নানা হাতে-কলমে কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল অবজার্ভ দ্য মুন নাইট ও মুন ক্যাম্প’। বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মহাকাশবিজ্ঞান ও চাঁদের রহস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এ আয়োজনে।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলে এ বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন। নাসার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী আয়োজিত চাঁদ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প ও কাসা, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
আয়োজকেরা জানান, দেশের ৩৫টি স্কুল থেকে ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২ জন শিশু-কিশোর এতে অংশ নেয়। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা চাঁদে বসতি তৈরির ধারণা, পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব, চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাকাশবিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয় ব্যবহারিক বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ। তারা নিজের হাতে চন্দ্রযানের মডেল তৈরি করে সেটি পরীক্ষা করে। এর মাধ্যমে মহাকাশযানের নকশা, কার্যপ্রণালি এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে অভিযানের ধারণা সম্পর্কে প্রাথমিক অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পায় শিশুরা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল টেলিস্কোপে সরাসরি চাঁদ পর্যবেক্ষণ। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকেরাও এ পর্বে অংশ নেন। অনেক অংশগ্রহণকারীর জন্য টেলিস্কোপে চাঁদ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল প্রথমবারের মতো।
চাঁদ পর্যবেক্ষণের সময় শিশুদের নানা প্রশ্ন, কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বইয়ে পড়া মহাকাশবিজ্ঞানের ধারণাগুলোকে বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ পায় তারা।
স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান অপু বলেন, শিশুরা যেন শুধু বই পড়ে মহাকাশ সম্পর্কে না জানে, বরং নিজের চোখে দেখে, হাতে-কলমে কাজ করে এবং প্রশ্ন করতে শেখে—এটাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, একটি শিশু যখন টেলিস্কোপে চাঁদ দেখে বা নিজের হাতে চন্দ্রযানের মডেল তৈরি করে, তখন তার মধ্যে মহাকাশ নিয়ে নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই স্বপ্নকে আরও বড় করে তোলাই তাদের প্রচেষ্টা।
আয়োজকদের ভাষ্য, বিজ্ঞান ও মহাকাশকে শিশুদের কাছে সহজ, আনন্দময় ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কার্যক্রম শেষে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। চাঁদ পর্যবেক্ষণ, ব্যবহারিক বিজ্ঞানচর্চা ও মহাকাশ নিয়ে নতুন প্রশ্নের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের ‘ইন্টারন্যাশনাল অবজার্ভ দ্য মুন নাইট ও মুন ক্যাম্প’।
//ডিবিটেক/এএইচও/বিপিও/এসএমই//





