হাই-ভ্যালু সলিউশন হাবে রূপান্তরই নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ: তানভীর ইব্রাহীম

হাই-ভ্যালু সলিউশন হাবে রূপান্তরই নতুন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ: তানভীর ইব্রাহীম
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৯  

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার; বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রচলিত রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও দলীয় ইশতেহারে এই খাতটিকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সামনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের চ্যালেঞ্জ এবং আগামীর প্রত্যাশা নিয়ে ডিজিবাংলা-র সাথে কথা বলেছেন দেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো-BACCO) সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম। 

আলাপকালে সরকারের সামনে ‘শুল্ক বাধা ও দক্ষ জনশক্তির সংকট’ বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তানভীর ইব্রাহীম মনে করেন, নতুন সরকারের সামনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে টেলিকম ও আইসিটি হার্ডওয়্যারের ওপর আরোপিত উচ্চ কর কাঠামো। তিনি বলেন, "টেলিকম সেবায় উচ্চ ভ্যাট-ট্যাক্স এবং হার্ডওয়্যার আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করে দিচ্ছে।" পাশাপাশি এআই (AI), সাইবার সিকিউরিটি এবং ডেটা সায়েন্সের মতো ফ্রন্টলাইনার প্রযুক্তিতে দক্ষ পেশাদারদের তীব্র সংকটকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, যথাযথ ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে বাংলাদেশ আজও বিশ্ববাজারে "লো-কস্ট লেবার" হিসেবে পরিচিত, যার ফলে বড় গ্লোবাল প্রজেক্টগুলো ভারত বা ভিয়েতনামের কাছে চলে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে দেশের শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেটের গতি ও মূল্যের বিশাল পার্থক্য বা ডিজিটাল ডিভাইড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাক্কো সভাপতি। তিনি জানান, ৫জি (5G) বিস্তারের ধীরগতি এবং বিনিয়োগ-বান্ধব স্থিতিশীল কর কাঠামোর অভাব উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে। সরকারি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিমালার জটিলতা নিরসন করা না গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অটেমেশন সল্যুশনজ বাংলাদেশের (Automation Solutionz Bangladesh) কান্ট্রি ডিরেক্টর তানভীর ইব্রাহীম সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "আইটি খাতের ট্যাক্স এক্সেম্পসন বা কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।" এছাড়া আইটি খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) ব্যয় করলে বিশেষ কর ছাড় (Tax Deduction) এবং এআই ভিত্তিক রপ্তানিতে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পাঠ্যক্রমে ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে লভ্যাংশ প্রত্যাবাসন (Profit Repatriation) প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন এই বিপিও নেতা। তিনি মনে করেন, আইটিইএস (ITES) খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বিনিয়োগ বান্ধব ও স্থিতিশীল নীতিমালা প্রণয়ন করা অপরিহার্য, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই নতুন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিক ৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর আইসিটি খাতের আমূল পরিবর্তনে জাতীয় আইসিটি রিফর্ম কমিশন গঠন করে শুরুতেই আইসিটি অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া দ্রুত সংস্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর পরেই ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার (PPP মডেলে) দেওয়া, একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের 'ডেটা সুরক্ষা আইন' কার্যকর করা এবং হোলসেল ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়াও তার দেয়া অগ্রাধিকার প্রস্তাবনায় পেপ্যাল (PayPal) বা সমমানের পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করে ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ নির্বিঘ্ন করা, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সাইবার সুরক্ষা কাঠামো গঠন করা,  সকল ডিজিটাল নাগরিক সেবার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে এনআইডি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও টেক-ইভেন্টে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী "টেক-হাব" হিসেবে তুলে ধরতে বিশেষ কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং শুরু করার বিষয় উঠে এসেছে যথারীতি। 

ডিবিটেক/এসআর/এমইউএম