ডিজিটাল নজরদারিতে সারের সরবরাহ
সার কার্যক্রম তদারকিতে চালু কন্ট্রোল রুম
- ফোন, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সারের অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি
- কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি প্রতিরোধে ২৭টি বিশেষ মনিটরিং দল গঠন
- দুই শিফটে পরিচালিত কক্ষে তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি হবে প্রতিবেদন
সারের টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট নিরসন ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার এ তথ্য জানা যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. মাকছুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কন্ট্রোল রুম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে যোগাযোগের জন্য ০৫০৩৫১ ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে টেলিফোন, মোবাইল, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাওয়া সারসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ, ডাটাবেজে নথিভুক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিফট পরিবর্তনের সময় দায়িত্ব যথাযথভাবে হস্তান্তর নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সারসংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্কিং ও দ্রুত তথ্য যাচাই করা হবে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মোট ২৭টি মনিটরিং দল গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক দায়িত্ব পালন করছেন। কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে; প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। সার্বিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ)।
কন্ট্রোল রুমের প্রধান কারিগরি দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সার সরবরাহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণসংক্রান্ত তথ্য ও উপাত্ত নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। কোথাও সার পরিবহণে বিঘ্ন, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির তথ্য মিললে তাৎক্ষণিকভাবে তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। কোনো জেলা বা উপজেলায় ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা শনাক্ত করে লজিস্টিক সুপারিশ পাঠাবে কন্ট্রোল রুম। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কৃষক, ডিলার ও পরিবহনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, কৃষি দফতর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। প্রতিদিনের পরিস্থিতি, সংগৃহীত তথ্য ও গৃহীত পদক্ষেপ রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে দৈনিক ও সাপ্তাহিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন উপস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন সমস্যা, গুদামজাতকরণ জটিলতা কিংবা ডিলার পর্যায়ের অনিয়ম ঠেকাতে ডিজিটাল মাধ্যমে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
//ডিবিটেক/এপিএন/এসএমই/এমআইএসটি//





