অ্যাপল ওয়ালেট বনাম গুগল ওয়ালেট: কোনটির কী সুবিধা?
পকেটে ফিজিক্যাল মানিব্যাগ বহন করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, ট্রেনের টিকিট, বিমান চলাচলের বোর্ডিং পাস কিংবা হোটেলের ডিজিটাল চাবি- সবই এখন স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে ‘অ্যাপল ওয়ালেট’ ও ‘গুগল ওয়ালেট’-এর বদৌলতে। অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের এই দুটি প্ল্যাটফর্মের মূল কাজ একই হলেও, অতিরিক্ত পাস যুক্ত করা, পেমেন্ট প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এদের মধ্যে বেশ কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। চলুন জেনে নিই সেই পার্থক্যগুলো।
টিকিট ও সাধারণ পাস সংরক্ষণ
ডিজিটাল পাস ও টিকিট যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুগল ওয়ালেট কিছুটা বেশি নমনীয়। এতে থাকা ‘এভরিথিং এলস’ ফিচারের সাহায্যে যেকোনো লাইব্রেরি, পার্কিং বা জিম কার্ডের ছবি তুলে তা খুব সহজেই ডিজিটাল পাসে রূপান্তর করা যায়।
পাশাপাশি জিমেইল ইনবক্স থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পারে গুগল।
অন্যদিকে, অ্যাপল ওয়ালেট এতদিন নির্দিষ্ট অফিশিয়াল ফরম্যাটের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সাম্প্রতিক ‘আইওএস ২৭’ আপডেটে কাস্টম পাসের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। তবে অফিশিয়াল বোর্ডিং পাসের ক্ষেত্রে অ্যাপল ওয়ালেট লাইভ আপডেট এবং অ্যাপল ওয়াচের সাথে সুবিধাজনক সমন্বিত অভিজ্ঞতা দেয়।
ব্যাটারি শেষ হলেও পেমেন্ট ও তথ্যের নিরাপত্তা
গণপরিবহনের ভাড়া মেটানোর ক্ষেত্রে অ্যাপল ওয়ালেটের ‘এক্সপ্রেস মোড’ এক বিশেষ প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করে। আইফোনের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও পরবর্তী সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত এক্সপ্রেস কার্ড ব্যবহার করে যাতায়াতের বিল পরিশোধ করা সম্ভব, যা গুগল ওয়ালেটে মেলে না; সেখানে পেমেন্টের জন্য স্ক্রিন চালু থাকা বাধ্যতামূলক।
তবে বড় পার্থক্যটি দেখা যায় তথ্যের সুরক্ষায়। অ্যাপল তাদের সার্ভারে গ্রাহকের লেনদেনের ইতিহাস বা আসল কার্ডের নম্বর সংরক্ষণ করে না, যা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।
বিপরীতে গুগল ওয়ালেট লেনদেনের বেশ কিছু তথ্য ও কার্ডের নম্বর তাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করে। এ ছাড়া সরকারি ডিজিটাল আইডি ব্যবহারের সুবিধা দুটি প্ল্যাটফর্মেই থাকলেও তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
ডিবিটেক/বিএমটি





