রিফার্বিশড নাকি প্রি-ওন্ড ফোন: কোনটি কেনা বেশি নিরাপদ?
নতুন স্মার্টফোনের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে বাজারে ব্যবহৃত বা পুরোনো ফোন কেনার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির বাজারে প্রায়শই দেখা যায় এমন দুটি পরিচিত লেবেল- ‘প্রি-ওন্ড’ এবং ‘রিফার্বিশড’। এদের মধ্যে মৌলিক কিছু তফাত রয়েছে। সংক্ষেপে, ‘প্রি-ওন্ড’ বা সাধারণ ব্যবহৃত ফোন কেবল ডিভাইসের অতীত মালিকানার ইতিহাস নির্দেশ করে, যা সাধারণত কোনো পরিবর্তন বা মেরামত ছাড়াই পূর্ববর্তী মালিকের ব্যবহৃত অবস্থায় বিক্রি করা হয়।
অন্যদিকে, ‘রিফার্বিশড’ হলো একটি সুনির্দিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া; যেখানে ফোনটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা, পরিষ্কার এবং প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে আবার নতুন রূপ দেওয়া হয়।
সহজ কথায়, সব রিফার্বিশড ফোনই ব্যবহৃত ফোন, তবে সব ব্যবহৃত ফোন রিফার্বিশড নয়।
মান নিয়ন্ত্রণ ও বিক্রয়োত্তর সেবার ভিন্নতা
‘রিফার্বিশড’ শব্দটির কোনো একক বা সর্বজনীন মানদণ্ড নেই। ফোনটি মূল প্রস্তুতকারক কোম্পানি, কোনো অনুমোদিত বিক্রেতা নাকি সাধারণ কোনো তৃতীয় পক্ষের দোকানদার মেরামত করেছে- তার ওপর এর গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
যেমন অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের নিজস্ব অফিশিয়াল সার্টিফাইড রিফার্বিশড ফোনে একদম নতুন ব্যাটারি, বডি শেল এবং ১ বছরের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে ইবে বা ব্যাক মার্কেটের মতো থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রেতার ওপর ভিত্তি করে আলাদা ক্যাটাগরি ও বিক্রয়োত্তর সেবার শর্ত দেওয়া থাকে। ফলে কেবল লেবেল দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, মেরামতপ্রক্রিয়া কে পরিচালনা করেছে এবং ওয়ারেন্টির শর্তগুলো কী, তা আগেই জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
সঠিক ডিভাইস নির্বাচনের উপায়
ঝামেলা ও ঝুঁকি এড়াতে চাইলে অফিশিয়াল সার্টিফাইড কিংবা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের রিফার্বিশড ফোন কেনাই তুলনামূলক নিরাপদ। তবে জানাশোনা কারও কাছ থেকে অথবা নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রি-ওন্ড ফোন কিনলেও সাশ্রয়ী মূল্যে ভালোমানের ফোন পাওয়া সম্ভব।
যে মাধ্যম থেকেই ফোন কেনা হোক না কেন, লেবেলের চেয়ে ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ কন্ডিশনের ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ফোনের ব্যাটারি হেলথ, নেটওয়ার্ক সামঞ্জস্যতা, সফটওয়্যার আপডেটের মেয়াদ, আইএমইআই নম্বর ঠিক রয়েছে কি না এবং পূর্ববর্তী ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বা অ্যাক্টিভেশন লক সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি





