২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম অরবিটাল ফ্লাইটে যাচ্ছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ
ইলন মাস্কের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স তাদের মেগা রকেট ‘স্টারশিপ’-এর বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম অরবিটাল বা কক্ষপথীয় পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিয়মকানুন সংক্রান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন এই তারিখ ঘোষণা করা হয়।
১৪তম এই পরীক্ষামূলক অভিযানে রকেটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭১ মাইল উঁচুতে উঠে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবীকে মোট ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে। পূর্ববর্তী সবকটি পরীক্ষা সাব-অরবিটাল হলেও, স্পেসএক্সের মতে মহাকাশযানের সার্বিক পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা এবং মূল বাণিজ্যিক ফ্লাইটের প্রস্তুতিতে এই অরবিটাল যাত্রা এক বড় মাইলফলক।
‘স্টারলিঙ্ক ভি৩’ স্যাটেলাইট ও গতির বিপ্লব
এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মহাকাশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক গ্রাহক সেবার জন্য ২৬টি নতুন প্রজন্মের ‘স্টারলিঙ্ক ভি৩’ ইন্টারনেট স্যাটেলাইট স্থাপন করা। আগের পরীক্ষায় কেবল সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য স্যাটেলাইট পাঠানো হলেও, এবারই প্রথম সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এগুলো কক্ষপথে মোতায়েন করা হবে।
এই ভি৩ স্যাটেলাইটগুলোর ডাউনলিঙ্ক ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ১ টেরাবিট, যা আগের ‘ভি২’ সংস্করণের চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত। পাশাপাশি এর আপলিঙ্ক গতি ১৬০ জিবিপিএস, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় ২২ গুণ বেশি।
অবতরণ কৌশল ও সরাসরি সম্প্রচার
তবে এই উড্ডয়নে উৎক্ষেপণ টাওয়ারের যান্ত্রিক বাহু (মেকানিক্যাল আর্ম) দিয়ে রকেটের প্রাক-অংশ বা বুস্টারটিকে ধরে ফেলার মতো জটিল কৌশল থাকছে না। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মাথায় স্টারশিপের ‘সুপার হেভি’ বুস্টারটি মেক্সিকো উপসাগরে পতিত হবে।
অন্যদিকে মহাকাশে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করে মূল স্টারশিপ মহাকাশযানটি চিলির উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে এসে নামবে। স্পেসএক্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে এই সম্পূর্ণ উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





