১৫০ ব্র্যান্ডের প্রযুক্তি প্রদর্শন
স্বস্তির বার্তা দিয়ে শেষ হলো নিরাপত্তা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী
- ১০ দেশের প্রায় ১৫০ ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রদর্শন
- সাইবার নিরাপত্তা, নজরদারি ও অটোমেশন সমাধানে ব্যবসায়িক যোগাযোগ
- তিন দিনে ৫০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণ
নিরাপত্তা, সাইবার সুরক্ষা, নজরদারি, অগ্নিনিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত তিনদিনের ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬’ শেষ হয়েছে। ১০ দেশের প্রায় ১৫০টি ব্র্যান্ডের প্রযুক্তি ও সমাধান নিয়ে আয়োজিত দ্বিতীয়বারের এই প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বাহারি সৌর শক্তির সিসি ক্যামেরা, বায়োমেট্রিক অ্যাটেন্ডেন্স, সার্ভিলেন্স ডিভাইসসহ ঘরে-অফিসে কিংবা সড়কের নিরাপত্তার বাহারি সুরক্ষা ডিভাইস ও অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে এবারের মেলায় নাগরিক জীবনে স্বস্তির বার্তা দিল তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে প্রদর্শনীর পর্দা নামে। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। বিসিএসের তথ্য অনুযায়ী, ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো ২০২৬’ ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রদর্শনীতে সাইবার নিরাপত্তা, স্মার্ট নজরদারি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনিরাপত্তা, অটোমেশন, এআইওটি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত নিরাপত্তা সমাধান প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে দেশি নির্মাতা, সরবরাহকারী ও আমদানিকারক, সফটওয়্যার ও সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, “তিনদিনের এই আয়োজন আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এ আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে প্রদর্শনী আয়োজনের অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ প্রদর্শনী নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার দ্বার খুলে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের নিরাপত্তা প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চাই।”
প্রথমবারের মতো প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আইসিসি কমিউনিকেশনস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইসপিএবির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, “মেলায় টিসিএল নাইট ভিশন সিকিউরিটি ক্যামেরায় দর্শনার্থী, করপোরেট ও ব্যবসায়ীদের ভালো সাড়া পেয়েছি। অনেকে আগাম বায়না করেছেন এবং ডিলারশিপ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। দেশজুড়ে ডিলারশিপ দেওয়া শুরু করেছি।”
শেনঝেন নিউব্রিজ কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সেলস ম্যানেজার ম্যান্ডি শু বলেন, “মেলায় অংশ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত চমৎকার। বাংলাদেশের মানুষের চীনা পণ্যের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ পেয়েছি। তিনদিনে ২৬০-এর বেশি ট্রেডার ও ডেলিগেটের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এ আয়োজন আমাদের ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়িয়েছে। আশা করছি, বাংলাদেশে নতুন গ্রাহক, ব্যবসায়িক সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হবে।”
স্মার্ট সেফটি অ্যান্ড অটোমেশন লিমিটেড এর জেনারেল ম্যানেজার রনি সাহা বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো-২০২৬ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। শুরু থেকেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। সিকিউরিটি, সার্ভেইল্যান্স, ফায়ার অ্যান্ড সেফটি, অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেটেড সলিউশন নিয়ে দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল। লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা বোঝার সুযোগ হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখে।”
চীন থেকে ইবিকেএন কোম্পানির সফটওয়্যার সলিউশন নিয়ে অংশ নেওয়া সেলস ম্যানেজার রিকা বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা বাড়াতে হবে। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি প্রয়োজন। আমাদের আনা সব লিফলেট, ব্রোশিয়ার ও ভিজিটিং কার্ড শেষ হয়ে গেছে। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজনে অংশ নিতে চাই।”
বিডিকম অনলাইন লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সাদমান সাকিব বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো-২০২৬ আমাদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা। সাইবার ডিফেন্স, ইএমএস ও স্মার্টট্র্যাকার ভেহিকল ট্র্যাকিং সলিউশন প্রদর্শন করেছি। দেশীয় প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে ইএমএস লঞ্চ করেছি। এ অংশগ্রহণ নেটওয়ার্কিং, ব্র্যান্ড উপস্থিতি ও নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
হিকভিশন বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার আল শাহরিয়ার বলেন, “এআইওটি সিকিউরিটি সলিউশন প্রদর্শন করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। স্মার্ট এডুকেশন, স্মার্ট ট্রাফিক ও ইন্টেলিজেন্ট ফ্যাসিলিটিজ নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা দিতে উৎসাহিত করবে।”
দাহুয়া টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রজেক্ট হেড (দক্ষিণ এশিয়া) অ্যান্ডি সান বলেন, “গোছানো ও দৃষ্টিনন্দন আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। দেশের নিরাপত্তা প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিসিএসের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজন হবে বলে প্রত্যাশা করি।”
কম্পিউটার সিটি টেকনোলজিস লিমিটেড এর ক্রিয়েটিভ ব্র্যান্ড ম্যানেজার রিয়াজ আহাম্মেদ বলেন, “আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি এক্সপো-২০২৬-এ দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণ আমাদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। সুপরিকল্পিত আয়োজনের জন্য মেলা কমিটিকে ধন্যবাদ। সাতটি আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি সলিউশন ব্র্যান্ড নিয়ে অংশ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এ আয়োজন নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিলার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে ১০ দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড অংশ নেয়। ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞও এতে যুক্ত ছিলেন। এর আগে আয়োজকেরা প্রায় ৫ হাজার বাণিজ্যিক দর্শনার্থী প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।
প্রদর্শনীটি শুধু নিরাপত্তা পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; প্রযুক্তি বিনিময়, সরাসরি পণ্য প্রদর্শন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, ডিলারশিপ, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন আয়োজন বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রযুক্তি খাতের বিকাশে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে পারে।
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএস//





