গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণে ইউজিসির উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’ করার জোর তাগিদ

  • অ্যাকাডেমিক গবেষণাকে শিল্প ও অর্থনৈতিক মূল্যে রূপান্তরের কৌশলগত রূপরেখা প্রকাশ
  • সক্ষম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন সেন্টার ও পেটেন্ট সুরক্ষায় সহায়তা দেবে ইউজিসি
  • ক্যাম্পাসভিত্তিক ইনকিউবেশন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম জোরদারে নীতিমালার সুপারিশ প্রণয়ন

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’ করার জোর তাগিদ
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০  

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মৌলিক গবেষণা ও উদ্ভাবনী জ্ঞানকে শিল্প ও বাস্তব অর্থনৈতিক মূল্যে রূপান্তর করে প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একেকটি ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’-এ পরিণত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।

১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটার সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা জানান, গবেষণা ও মেধার সুফল জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করতে শিক্ষক মূল্যায়ন কাঠামোয় গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণকে যুক্ত করা, ইনোভেশন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের যৌথ গবেষণা নিশ্চিত করা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, "দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরি ও অর্থনীতিতে মূল্য সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেবে ইউজিসি। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ অর্থায়নে গবেষণা, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, পেটেন্ট সহায়তা এবং সক্ষম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত উদ্ভাবনকেন্দ্র ও ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।"

অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. সবুর খান অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, "দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল ডিগ্রি প্রদানে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনী কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে। গবেষণার ফলাফল ল্যাব থেকে বের করে বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমেই টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি সম্ভব।"

বৈঠকে অংশ নিয়ে মতামত দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক এ. কে. এম. আমিরুল ইসলাম, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা জোহরা এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো জানায়, আলোচকদের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষায় উদ্ভাবনী সংস্কারের একটি সমন্বিত সুপারিশমালা তৈরি করে দ্রুত সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামে পাঠানো হবে।
//ডিবিটেক/ওসি/এসই/ইআইসি//