লালমাই পাহাড়ে মিলল অপ্রতিমের মরদেহ; জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে স্বজনদের আহাজারি
আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের সন্তান হত্যা? সিসিটিভির সূত্রে আটক ২
- মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ কিশোর অপ্রতিমের মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত মরদেহ লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার
- কুবি ফটকের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক চলাফেরার সূত্রে অভিযুক্ত তুহিন ও তার তথ্যে আনাস নামে দুজন আটক
- সংসদ সদস্যের সমবেদনা ও ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার প্রতিশ্রুতিতে কোটবাড়ির বাসভবনে শোকের মাতম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি পাওয়া না যাওয়ায়, মোবাইল ফোনটির লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তার পরিবার।
নিখোঁজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় প্রথমে তুহিনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম আহমেদ ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।
এর আগে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের মূল্যবান আইফোনটি নিয়ে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। রাত ৯টার পরও বাসায় না ফেরায় তার বাবা একেএম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের ট্র্যাকিংয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ফোনটির অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হলেও এরপর আর কোনো সিগন্যাল পাওয়া যায়নি।
পরদিন শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে কোটবাড়ির ভাড়া বাসা। কান্নায় ভেঙে পড়ে মা ড. নাহিদা বেগম বিলাপ করে বলতে থাকেন, "আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি শুধু সেটার জবাব চাই। একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলবে, এটা কোন দেশ? আমি কেমনে আমার জীবন পার করবো?" এ সময় অপ্রতিমের বাবা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার পেছনে আইফোনটির কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খবর পেয়ে বাসায় উপস্থিত হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। শোকস্তব্ধ পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তিনি নিজেও কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, "একজন মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না, এজন্য আমি লজ্জিত ও দুঃখিত। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো; আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ বর্বরোচিত ঘটনার বিচার সম্পন্ন করা হবে।"
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএস/বিপিও//





