প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আড়াই লাখ কোটি টাকার সমন্বিত গণপরিবহন রূপরেখা পাস

একনেকে ৩ মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রজেক্ট অনুমোদন

  • প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে একনেকে
  • নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
  • ১২টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৬৮,৭৮০.৪০ কোটি টাকা, সঙ্গে অবহিত করা হলো ১৫টি ছোট প্রকল্প

একনেকে ৩ মেট্রোরেল ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রজেক্ট অনুমোদন
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:২৬  

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকার ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প পাসের মাধ্যমে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করা হলো।

অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প ৭টি এবং সংশোধিত প্রকল্প ৫টি। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮,২৫৬.৩০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ ১,২০,৪৬৬.৩৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক এজেন্ডায় কেবল এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন থাকার কথা থাকলেও সমন্বিত অগ্রগতির স্বার্থে জাইকা ও এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য লাইনগুলোর সংশোধিত বাজেট একই সভায় অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যয় ও বিবরণ:
  • এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর): ৩১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাতাল ও উড়াল মেট্রোরেল প্রকল্পটি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১ম সংশোধিত বাজেটে এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৪,৩৯৪.৮৯ কোটি টাকা।

  • এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট (হেমায়েতপুর-ভাটারা): জাইকার অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটের ১ম সংশোধিত বাজেটে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯,৮৪৮.৩৬ কোটি টাকা।

  • এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (গাবতলী-দাশেরকান্দি): এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে ১৭.২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের (১৩.১০ কিমি পাতালপথসহ) নতুন এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৫,৫০৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প:

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে "Implementation of Electric Traction Along Narayanganj-Dhaka-Joydebpur Section of Bangladesh Railway" প্রকল্পটি একনেক সভায় পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ব্যস্ততম এই রেল রুটে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে বিদ্যুতায়িত ট্রেন সার্ভিস চালু হবে।  ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব ইলেকট্রিক ট্রাকশন অ্যালং নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর’ প্রকল্পের আওতায় ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে এই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ট্রেন চালু করা হবে। ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৯৪২ কোটি টাকা। বাকি অর্থ উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেবে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

একনেক সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রধান প্রকল্পসমূহ: ১. সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় (৫টি): এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন), এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান ১ম সংশোধন), এমআরটি লাইন-১ (১ম সংশোধন), রাজশাহী সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ এবং চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়কসমূহ উন্নয়ন (৩য় পর্যায়)।

২. রেলপথ মন্ত্রণালয় (২টি): নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)।

৩. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (২টি): বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অবকাঠামো নির্মাণ।

৪. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (১টি): খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)।

৫. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (১টি): টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন ( improved working condition and social protection project)।

৬. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (১টি): মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধন)।

এছাড়াও ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে অবহিত করা হয়। এগুলোর মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন (২য় সংশোধন), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সদর দপ্তর নির্মাণ (১ম সংশোধন), ভাসানচর ও কক্সবাজারে গ্রিন বেল্ট ও বনায়ন, দেশী মুরগি গবেষণা, অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু প্রতিস্থাপন, আরডিএ ভবন নির্মাণ, সিলেট-১০ নং অনুসন্ধান কূপ খননসহ স্টেডিয়াম ও শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; পানি সম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 //ডিবিটেক/এমজেইউ/এনএপি/এমআইএসটি//