দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু ও টেলিকম খাত সংস্কারের আহ্বান বাংলালিংক সিইওর

দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু ও টেলিকম খাত সংস্কারের আহ্বান বাংলালিংক সিইওর
১৪ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০১  

দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল সেবার প্রসার বাড়াতে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু এবং টেলিযোগাযোগ খাতে নীতিগত সংস্কারের তাগিদ অনুভব করছে  বাংলালিংক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান বুসে। 

১৪ মার্চ, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলে টেলিকম খাতের সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানের ফাঁকে আলাপনে এমন অভব্যক্তি প্রকাশ করেন তিনি। 

প্রায় শতেক গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বাংলালিংক চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, বাংলালিংকের বর্তমান চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মো. আব্দুল কাদের জোয়াদ্দার, চিফ টেকনোলজি ও ইনফরমেশন অফিসার হুসেইন তুর্কার, চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, চিফ ডিজিটাল অফিসার গোলাম কিবরিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা  রুহুল কাদের ও কর্পোরেট কমিনিউকেশন হেড গাজী তাওহিদ আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার মাহফিলের অনানুষ্ঠানিক আলাপে সাম্প্রতিক বছরগুলোকে চ্যালেঞ্জিং সময় উল্লেখ করলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলালিংক প্রধান ইওহান বুসে।

বিদেশি নির্বাহী হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করলেও দেশের মানুষের উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধি ও জনকল্যাণ আরও জোরদার করা সম্ভব। এক্ষত্রে মনে হতে পারে, আমি হয়তো এই দেশের বাইরের একজন মানুষ, কিন্তু এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান, বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে একটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছে এবং এই খাতের ইকোসিস্টেমে যুক্ত হতে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহী।

জোহান বুসে মনে করেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং চালু হলে বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ এসব সেবা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় সহজ ও কম খরচে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় আলাদা, কারণ এতে ব্যয়বহুল শাখা বা জটিল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না। ফলে সেবাগুলো আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে স্মার্টফোনের মাধ্যমে তিন মিনিটেরও কম সময়ে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।

টেলিযোগাযোগ খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বুসে বলেন, দেশে স্পেকট্রামের মূল্য অনেক বেশি, যা অপারেটরদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তার মতে, বর্তমান বাজার কাঠামো প্রতিযোগিতা ও বেসরকারি অপারেটরদের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে সহযোগিতার সুযোগ বাড়ানো যেতে পারে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। সরকারের অধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিজ্ঞ বেসরকারি অপারেটরদের অংশীদারিত্ব উৎসাহিত করা হলে সেবার মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বাংলালিংক সিইও বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও পরিচালন দক্ষতা একত্রে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, তে  অংশীদারিত্বের সুযোগ পেলে বাংলালিংক তা বিবেচনা করতে আগ্রহী।

ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম