২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এসএমবি খাতে ভুয়া এআই টুলের মাধ্যমে হামলা বেড়েছে ৫ গুণ
ভুয়া এআই টুলের ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার ছড়াচ্ছে সাইবার অপরাধীরা: সতর্ক করল ক্যাসপারস্কি
আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে সাইবার অপরাধীরা চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও ডিপসিক-এর মতো জনপ্রিয় এআই টুলের ভুয়া ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনা প্রায় ৫ গুণ বাড়িয়েছে। এছাড়া জুম, হোয়াটসঅ্যাপ বা টিমসের ভুয়া সংস্করণ ব্যবহার করে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার হামলা প্রতিহত করেছে ক্যাসপারস্কি।
বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমবি) আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৭ জুন আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে সাইবার অপরাধীরা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) টুলের ছদ্মবেশে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনা প্রায় পাঁচ গুণ (৫ গুণ) বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া মেসেজিং ও ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হচ্ছে।
ক্যাসপারস্কির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাইবার অপরাধীরা ট্রোজান ধরনের ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ছড়ানোর জন্য মূলত বিশ্বখ্যাত ও বহুল ব্যবহৃত এআই টুলগুলোর নাম ব্যবহার করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করা হয়েছে—
- চ্যাটজিপিটি (৪২ শতাংশ)
- ক্লড (২৪ শতাংশ)
- ডিপসিক (২০ শতাংশ)
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যাতে বিভ্রান্ত হয়ে এসব ভুয়া সফটওয়্যার ইনস্টল করেন, সেজন্যই এই ছদ্মবেশ ধারণ করা হচ্ছে। এই ট্রোজান ম্যালওয়্যারগুলো মূলত ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে, ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করতে বা আক্রান্ত কম্পিউটারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম। এছাড়া শুধু এআই টুই নয়; টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, জুম এবং মাইক্রোসফট টিমস-এর মতো প্রাত্যহিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুয়া সংস্করণ ব্যবহার করেও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। ক্যাসপারস্কি জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসেই তারা প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার এমন জটিল সাইবার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যা প্রমাণ করে যে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সাইবার অপরাধীদের অন্যতম প্রধান সফট-টার্গেট।
ক্যাসপারস্কির সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কোলেসনিকভ বলেন, “সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত তাদের আক্রমণের নতুন নতুন কৌশল ও ফাঁদ তৈরি করছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই আমরা এমন শত শত হামলা শনাক্ত করেছি, যেখানে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এআই টুল ‘ওপেনক্ল’-এর ভুয়া সংস্করণ ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার ছড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই কাজের প্রয়োজনে কোনো না কোনো এআই টুল ব্যবহার করছেন। তাই ইন্টারনেট থেকে যেকোনো সফটওয়্যার ডাউনলোডের আগে ওয়েবসাইটের সঠিক ঠিকানা ও লিংক ভালোভাবে যাচাই করা এবং নির্ভরযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।”
ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ক্যাসপারস্কি স্মল অফিস সিকিউরিটি প্রোডাক্ট ম্যানেজার রোডিয়ন পিয়ানভ বলেন, “সাইবার অপরাধীরা মূলত মানুষের অসচেতনতা ও ভুলকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার নতুন নতুন উপায় তৈরি করছে। তাই ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানের সময় ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে সহজে ব্যবহারযোগ্য, লাইটওয়েট এবং কার্যকর নিরাপত্তা সমাধান বেছে নেওয়া উচিত।”
নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাসপারস্কির মূল পরামর্শসমূহ:
১. প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে মিল রেখে সঠিক নিরাপত্তা সমাধান বা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা।
২. যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইটি নিরাপত্তা টিম বা এক্সপার্ট নেই, তারা সার্বক্ষণিক হুমকি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশ্বস্ত ‘ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স’ (MDR) সেবা গ্রহণ করতে পারে।
৩. বাহ্যিক বা থার্ড-পার্টি অনলাইন সেবা ও এআই টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে করপোরেট গাইডলাইন বা স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা।
৪. করপোরেট অ্যাকাউন্টগুলোতে কড়াকড়ি প্রবেশাধিকার বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) নিয়ন্ত্রণ চালু করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা।
//ডিবিটেক/আরআই/ইকে//





