অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি ও ব্যালেন্স শিট সংস্কারের পরামর্শ
এআই চীনে ‘শক্তিশালী জোগান ও দুর্বল চাহিদার’ ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘায়িত করতে পারে: পিবিওসি উপদেষ্টা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার উৎপাদন বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ ভোগ না বাড়লে চীনের চাহিদার ঘাটতি আরও বাড়তে পারে
- আবাসন খাতের মন্দা ও স্থানীয় সরকারের দেনার চাপের মুখে কেবল রপ্তানিনির্ভর না হয়ে পারিবারিক আয় বাড়ানোর পরামর্শ
- অর্থনীতিকে চাঙা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ বাড়িয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানের দেনা শোধের আহ্বান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যাপক ব্যবহার ও প্রযুক্তির দ্রুত উদ্ভাবন চীনের বিদ্যমান ‘শক্তিশালী জোগান এবং দুর্বল চাহিদার’ ভারসাম্যহীনতাকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (পিবিওসি) মনিটারি পলিসি কমিটির সদস্য হুয়াং ইয়িপিং। ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির সার্বিক ব্যালেন্স শিট সংস্কারের জন্য নীতিমালা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
বর্তমানে আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, স্থানীয় সরকারের ঋণ সংক্রান্ত চাপ এবং ভোক্তাদের সতর্কতামূলক খরচের কারণে চীনা নীতিনির্ধারকেরা অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুজ্জীবিত করতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও বিশ্বব্যাপী এআই বুমের কারণে এ বছর দেশটির রপ্তানি খাত চাঙ্গা রয়েছে এবং তা অভ্যন্তরীণ দুর্বল চাহিদার ধাক্কা কিছুটা সামলে নিতে সাহায্য করছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে চাহিদা ও জোগানের ব্যবধান স্বল্পমেয়াদে দূর নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব বাণিজ্য সহযোগীরা বেইজিংকে তাদের অর্থনীতিকে অতিরিক্ত রপ্তানিনির্ভরতা থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ ভোগের দিকে পুনর্গঠন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, দেশটির অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বিশ্ববাজারে তুলনামূলক সস্তা চীনা পণ্যের আধিপত্য তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হুয়াং ইয়িপিং বাজারভিত্তিক সংস্কারকে আরও এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন, যাতে বাজার সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পারিবারিক আয়ের অংশ বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দেনা মিটিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সক্ষমতা ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ানো উচিত বলে মত দেন এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপদেষ্টা।
//ডিবিটেক/ রয়টার্স/এনএপি/বিপিও//





