যৌথ উদ্যোগে শিক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল রূাপন্তর করবে এটুআই ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়লে, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতাও বাড়বে : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়লে, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতাও বাড়বে :  ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
২৪ মে, ২০২৫ ১৮:১৫  
২৪ মে, ২০২৫ ২২:১৭  

শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়লে, শিক্ষার্থীদের সক্ষমতাও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফায়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের দক্ষতার ওপরই শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নির্ভর করে। আমরা মনে করি, ক্রমাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহারে সক্ষম হবেন। এক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের অনলাইন ম্যাটেরিয়াল শিক্ষকদের আলোচনাকে বোধগম্য ও সহজ করবে। তাই আমরা দীক্ষা (DIKKHA) এবং মুক্তপাঠ (MuktoPaath) এর মতো প্রকল্পগুলোকে নতুন করে সাজাবো। এতে করে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠগুলো ঝালিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।  

শিক্ষা কার্যক্রম ডিজিটাল রূাপন্তরে শনিবার আইসিটি টাওয়ারে অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের (জাবিবা) মধ্যে অনুষ্ঠিত সমঝোতা চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোঃ রাশিদুল মান্নাফ কবীর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানউল্লাহ এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটি একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শক্তিশালী ডিজিটাল দক্ষতা সংযোজন, আধুনিক শিক্ষণ ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শ্রেণীকক্ষ থেকে কর্মক্ষেত্রের পথে আরও সুস্পষ্ট পথরেখা রচনা করবে উভয় প্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী,  এটুআই এজেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মামুনুর রশিদ ভূঁইয়া; ‘ডিজিটাল ইন্টারেক্টিভ ন্যাক ফর নলেজেবল হিউম্যান অ্যাসেটস ইনিশিয়েটিভ (দীক্ষা)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ কবির হোসেন; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান এবং অধ্যাপক মোঃ নুরুল ইসলাম; এটুআই-এর ফিউচার অফ এডুকেশন বিভাগের প্রধান মোঃ আফজাল হোসেন সারওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

এটুআই-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ আল ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন,“আমাদের প্রথম কাজ হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে ডিজিটাল করা, যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো বিলম্ব ছাড়াই সহজে তাদের সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং অন্যান্য নথি পেতে পারে।”

এজন্য অবিলম্বে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লার্জ ল্যাঙ্গয়েজ মডেল এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমরা বর্তমান কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কোর্সগুলোকে আপডেট করব।”

“শিক্ষার্থীদের শুধু মুখস্থবিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের ধারণা অন্বেষণ, সমস্যা সমাধান এবং নতুন কিছু তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে”- যোগ করেন তিনি। 

এই অংশীদারিত্বকে একটি বৃহত্তর সংস্কার পরিকল্পনার অংশ উল্লেখ করে আইসিটি সচিব শিশির হায়দার চৌধুরী বলেন, “বহু বছর ধরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো আধুনিক প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে স্ট্রাগল করছিল। ডিজিটাল রূপান্তর এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। এটুআই-এর (a2i) সহায়তায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি উচ্চশিক্ষার জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণ করতে শুরু করতে পারে।”

অধ্যাপক ড. আমানউল্লাহ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর দশ লক্ষেরও বেশি স্নাতক তৈরি করে, যা বিশ্বের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৭০ শতাংশই আমরা সরবরাহ করি। আমাদের শিক্ষকরা নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন এবং আমাদের অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে, তবুও আমাদের পাঠ্যক্রম সবসময় বর্তমান দিনের চাহিদার সাথে মেলে না। এই চুক্তিটি সঠিক সময়ে এসেছে। এটি আমাদেরকে শিল্পের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষাকে সাজাতে এবং অধ্যয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।” 

এই অংশীদারিত্ব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, “আমরা এই সহযোগিতা কেবল কাগজে-কলমে রাখব না। কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা যৌথ উদ্যোগ শুরু করব, নতুন কোর্স পরীক্ষা করব এবং শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনার সাথে সঙ্গতি রেখে ইন্টার্নশিপের সুযোগ করে দেব।”

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষই যথাক্রমে জাবিবা-এর শিক্ষার্থীদের এবং স্নাতকদের জন্য শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি এবং টেকসই কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলবে। এটুআই বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সে ডিজিটাল রূপান্তরে, নতুন মডিউল ডিজাইন এবং অনলাইন রিসোর্স তৈরিতে কাজ করবেন। এটুআই ভবিষ্যতের শিক্ষা মডেল নিয়ে যৌথ গবেষণা, সফটওয়্যার ভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় নীতি বিষয়ে পরামর্শ এবং শিক্ষকদের মিশ্র শিক্ষণ পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। এছাড়াও, প্রোগ্রামটি জাবিবা-কে নিয়োগকর্তাদের সাথে সংযুক্ত করবে যাতে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ এবং প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্বের একাডেমিক দিকটি নেতৃত্ব দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এর অধিভুক্ত কলেজ নেটওয়ার্কের মধ্যে পাঠ্যক্রম সংস্কার, ডিজিটাল গভর্নেন্স এবং ই-সার্ভিসগুলোর জন্য বিস্তারিত কৌশল তৈরি করবে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা করবে যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতকৃত ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং দক্ষতা মূল্যায়ন দিতে সহায়ক। অনলাইন অধ্যয়নের জন্য শিক্ষার্থীরা যাতে সম্পূর্ণ একাডেমিক ক্রেডিট অর্জন করতে পারে, সেজন্য ডিজিটাল কোর্সের জন্য অ্যাক্রিডিটেশন চাইবে। এছাড়াও, অনুষদ সদস্য এবং শিল্প উপদেষ্টাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের ব্যবসার ধারণা বিকাশের জন্য স্থান তৈরি করে উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করবে।