৪৬ পিয়ারে ফাটল, নভেম্বরের মধ্যে ২৭ প্যাড বদল

মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল

মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩৫  

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭টিকে মাইনর বা তুলনামূলক কম ঝুঁকির এবং ২৭টিকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল শনাক্ত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।

সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের এক সংসদ সদস্য স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জানতে চান, উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল রুটের ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ এবং ৪৬টি পিয়ারে ফাটল পাওয়া গেছে কি না। এসব সমস্যা সত্য হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।

জবাবে মন্ত্রী জানান, মেট্রোরেলের ঝুঁকি নিরূপণ এবং মেরামতের কৌশল নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুয়েট স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২৯৭টি বিয়ারিং প্যাডের ক্ষেত্রে ত্রুটির মূল কারণ স্থাপনের সময়কার কাজের মান বা ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডকে ত্রুটিপূর্ণ বলা হলেও সবগুলোকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এর মধ্যে ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল।

অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএল ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সেফটি অডিট রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। কমিটি অডিটের তাৎক্ষণিক সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বলে সংসদে জানানো হয়।

বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুতির মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য সেটেলমেন্ট মার্কার বসানো হয়েছে।

ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত ২৭টি বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপনের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। এসব প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থাপনায় থাকা ক্র্যাকের পরিমাণ পরিমাপ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এসব গেজ স্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সেফটি অডিটের তথ্য অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাড ও পিয়ারের ফাটল শনাক্ত হওয়ার পর ঝুঁকি নিরূপণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে মেট্রোরেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও কাঠামোগত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী মেরামত কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
//ডিবিটেক/এডিও/এসএমই/এমআইটি//