মুক্ত সফটওয়্যারে দুই প্রজন্ম
সফটওয়্যার ফ্রিডম ডেতে চার শহরে আড্ডা
- ঢাকাসহ চার শহরে মুক্ত সফটওয়্যার নিয়ে আয়োজন
- উঠে আসে দেশের ওপেন সোর্স আন্দোলনের পুরোনো গল্প
- এআই মডেলে নতুনদের অবদানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা
বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে উপলক্ষে ঢাকাসহ বাংলাদেশের চার শহরে মুক্ত সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স প্রযুক্তি নিয়ে আড্ডা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) কার্যালয়ে মূল আয়োজনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও রংপুরে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে একই দিনে এসব আয়োজন করা হয়।
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে উপলক্ষে এসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শনিবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে ছোট ছোট দল নিজেদের উদ্যোগে মুক্ত সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স প্রযুক্তি নিয়ে এ দিনটি উদযাপন করে।
ঢাকার আড্ডায় অংশ নেন বিডিওএসএনের সভাপতি মুনির হাসান, ওপেন নলেজ ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসেডর নুরুন্নবী চৌধুরী (হাছিব), বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য নাসির খান সৈকত, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির গবেষক জাহিদ হোসাইন খান, বিডিওএসএনের কোষাধ্যক্ষ প্রমি নাহিদ, এআই অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক মোশারফ হোসেন টিপু, তাহনিক আহমেদসহ মুক্ত সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্সের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তিরা।
অংশগ্রহণকারীদের কেউ দীর্ঘদিন ধরে ওপেন সোর্স আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, আবার কেউ সম্প্রতি এ ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেছেন। দুই প্রজন্মের মানুষের অংশগ্রহণে আড্ডায় বাংলাদেশের মুক্ত সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স আন্দোলনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, উদ্যোগ ও পরিবর্তনের গল্প উঠে আসে।
আলোচনার শুরুতে মুনির হাসান বাংলাদেশে মুক্ত সফটওয়্যারের শুরুর দিকের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় ইন্টারনেটে বাংলায় লেখাও বেশ কঠিন ছিল। বাংলা ফন্ট, কিবোর্ড ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন টুল সহজে পাওয়া যেত না। সেই সময়ের প্রযুক্তিগত প্রয়োজন থেকেই দেশে বিভিন্ন মুক্ত সফটওয়্যার ও ওপেন সোর্স উদ্যোগের সূচনা হয়।
পরে উইকিপিডিয়া, অঙ্কুর লিনাক্স, মজিলা ও স্ক্র্যাচ বাংলাদেশের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। অল্প কয়েকজন মানুষ কীভাবে এসব কাজ শুরু করেছিলেন, কোথায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাধার মুখে পড়েছিল, কোন উদ্যোগ সময়ের সঙ্গে থেমে গেছে এবং কোনগুলো এখনো সক্রিয়—এসব বিষয় উঠে আসে আলোচনায়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এসব উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নিজেদের প্রয়োজন ও আগ্রহ থেকে কাজ শুরু করা। কেউ বাইরে থেকে নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষা করেননি। বরং নিজেদের তৈরি কাজ অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরও অনেকে তা ব্যবহার ও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
আলোচনার পরের অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল নিয়ে কথা বলেন তাহনিক আহমেদ। বর্তমান সময়ে এআই মডেলে কীভাবে অবদান রাখা যায়, নতুনদের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির মধ্যেও ভালো পণ্য তৈরির মূল বিষয়গুলো কীভাবে একই থাকে—এসব নিয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুরের কারমাইকেল কলেজে সফটওয়্যার ফ্রিডম ডে উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা নিজেদের উদ্যোগে এসব আয়োজন পরিচালনা করেন।
দিনের সব আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কেক কাটা হয়। মুক্ত সফটওয়্যার, ওপেন সোর্স এবং প্রযুক্তিতে স্বেচ্ছাসেবী অবদানের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজনগুলো শেষ হয়।
//ডিবিটেক/এনএইচএস/এসএমই/বিপিও//





