স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাবেচা ও ব্যাংকিং সুবিধায় আইসিসিবিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
আইসিসিবিতে ‘সুপার সেল কার বাজার’: ৯০ হাজার বর্গফুটে ইভি ও ফ্রি সার্ভিস
- চাহিদা বৃদ্ধিতে বাজারের পরিধি বেড়ে ৯০ হাজার বর্গফুটে রূপ নিয়েছে, যুক্ত হয়েছে ফ্রি হেলথ চেকআপ ও ৪৮ ঘণ্টার লোন সুবিধা
- থাইল্যান্ড প্ল্যান্টের প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারিতে ১৮০ কিমি এবং মোট ১২৩৪ কিমি ড্রাইভিং রেঞ্জ সুবিধার প্রদর্শন
- মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই টেস্ট ড্রাইভ ও ইতিহাস যাচাইয়ের মাধ্যমে পছন্দসই গাড়ি কেনার অনন্য সুযোগ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) প্রতি শুক্রবার বসছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। শুরু থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া এ বাজারে আজও গাড়ির জমজমাট বেচাকেনা হয়েছে। গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় আজ ৯০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ছিল সুপার সেল কার বাজার। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ বাজার থেকে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দের বাইক ও গাড়ি কিনতে পেরেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য এ বাজার খোলে, চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
সকালে বাজার খোলার পর থেকেই দলে দলে সুপার সেল কার বাজারে আসেন বাইক ও গাড়িপ্রেমীরা। বাজারে ঘুরতে কেউ কেউ নিজের ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির জন্য সিরিয়ালে সাজিয়ে রাখেন। এদিন পুরোনো গাড়ির পাশাপাশি কার বাজারে এসেছে ইলেকট্রিক নতুন গাড়িও।
চাংগান ও ডিপাল (ডিএইচএস অটোস)-এর হেড অব সেলস আলফাত হোসেন খান বলেন, আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল ব্র্যান্ড ডিপাল ও চাংগান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে আমরা এই কার বাজারে অংশ নিয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন গাড়ি কিনতে গেলেও গ্রাহককে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু প্রায় সমপরিমাণ টাকাতেই ওয়ারেন্টিসহ একটি সম্পূর্ণ ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি কেনার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তাই রিকন্ডিশন ছেড়ে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। আলফাত হোসেন খান বলেন, আমাদের কালেকশনে মূলত ইলেকট্রিক, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং গ্যাসোলিন বা তেলের গাড়ি রয়েছে। এটি গ্রাহকদের সবচেয়ে চাহিদাবহুল ও আকর্ষণীয় মডেল, যা থাইল্যান্ডের প্ল্যান্ট থেকে আসছে। গাড়িটি শুধু ব্যাটারির শক্তিতে (একবার চার্জে) ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তেল ও চার্জ– উভয় জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি সর্বমোট ১২৩৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিয়ে থাকে।
সুপার সেল কার বাজার থেকে ক্রেতা গাড়ি কেনার আগেই তার আসল অবস্থা, পূর্বের ইতিহাস এবং পার্টসের কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা জানার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাকে শুধু কাগজ-কলমে বা কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে না। এখানে টেস্ট ড্রাইভ করে গাড়ি পরীক্ষা করার সুযোগও থাকছে।
কার বাজারের ক্রেতাদের গাড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিতে মোবাইল সার্ভিস ভ্যান প্রস্তুত করে অপেক্ষা করছিলেন হুন্দাইয়ের তেজগাঁও শাখার সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সিয়াম। তিনি বলেন, সুপার সেল কার বাজারে অনেক গাড়ি বিক্রি হয়। এখানে পুরোনো, রিকন্ডিশন ও ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি রয়েছে।
মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, আমরা ক্রেতাদের সহায়তা করার জন্য মোবাইল সার্ভিস ভ্যান নিয়ে কার বাজারে আছি। ক্রেতা গাড়ি কিনে আমাদের কাছে নিয়ে এলে আমরা তার পুরো গাড়ির হেলথ চেকআপ ফ্রিতে করে দেব। গাড়ির ইঞ্জিন, গিয়ার বক্সসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক আইটেমগুলো কী কী কন্ডিশনে আছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্পূর্ণ একটা রিপোর্ট আমরা কাস্টমারকে দিই। যাতে ক্রেতা রিপোর্ট দেখে বুঝতে পারেন গাড়িটি কেনার উপযোগী কি না।
সুপার সেল কার বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঝামেলা ছাড়াই বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সঠিক দামে গাড়ি কেনার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্রেতার পাশাপাশি এ বাজারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল বেশ। তারাও ঘুরে ঘুরে বাইক ও গাড়ি দেখেছেন। কেউ কেউ কার বাজারের ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে গাড়ির মডেল ও মার্কেট প্রাইস সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। কার বাজারের ক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, আইসিসিবিতে সুপার সেল কার বাজারে গাড়ি দেখতে এসেছি। এখানে এক ছাদের নিচে অনেক গাড়ি দেখে বেশ ভালো লাগছে।
তিনি বলেন, এখানে দালালদের কোনো দৌরাত্ম্য নেই। বিষয়টি অনেক ভালো লেগেছে। আমি অনেকদিন ধরে ঢাকায় থাকি। তাই ঢাকার অনেক স্বনামধন্য শোরুমগুলো চিনি। সেই শোরুমগুলোর গাড়ি এখানে আসছে। সুপারসেল কার বাজারের পরিবেশটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে ঘুরে গাড়ি পছন্দ করছেন।
এদিকে, সুপার সেল কার বাজারে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে কার লোনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ বাজারের ক্রেতাদের জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন ও পুরোনো এবং রিকন্ডিশন গাড়ির লোন দিতে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ রয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে গাড়ি কেনাবেচার এই আসর প্রতি শুক্রবার বসছে। সুপার সেল কার বাজার উদ্বোধনী দিনেই অনেকের নজর কেড়েছে। বহুবিধ ব্যস্ততার এই শহরে এমন আয়োজনকে স্বস্তিদায়ক বলছেন অনেক ক্রেতা।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। সুপার সেল কার বাজার সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিক্রেতারাও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
সুপার সেল কার বাজার আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এ আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
//ডিবিটেক/বিএনও/এসএমই/এমআইএস//





