অ্যাসেট প্রকল্পের ইবিটি কার্যক্রম পর্যালোচনা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণে জোর

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত অ্যাসেট প্রকল্পের এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালায় শিল্প-সংযুক্ত, ফলাফলভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আওতায় ৬২টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার প্রশিক্ষণার্থী বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

অ্যাসেট প্রকল্পের ইবিটি কার্যক্রম পর্যালোচনা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণে জোর
১১ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩  

দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা অর্জনে শিল্পভিত্তিক ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) অ্যাসেট (অ্যাক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া (এনডিসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শামসুর রহমান খান এবং অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মীর জাহিদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান উপস্থাপনায় ইবিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, এন্টারপ্রাইজ-ভিত্তিক ট্রেনিং (ইবিটি) এমন একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি, কর্মপরিবেশ, গ্রাহকসেবা এবং বাজারের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সক্ষমতা বাড়ায়।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির আওতায় বর্তমানে ৬২টি প্রতিষ্ঠান ২৮৩টি অনুমোদিত প্রশিক্ষণ ব্যাচ পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৭৩টি ব্যাচ সক্রিয় রয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৫২ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৯২ জন পুরুষ, ১ হাজার ৭৬০ জন নারী, ২৩ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ২০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন। মোট প্রশিক্ষণার্থী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭৯২ জন।

বর্তমানে আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড সার্ভিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, পাইথনভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, ডেটা সায়েন্স, বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স, এআই ইন ইমারসিভ টেকনোলজি, জাপানি ভাষা, প্রফেশনাল কাস্টমার সার্ভিস, ব্যাক অফিস সার্ভিস এবং রিটেইল সেলস অপারেশনসসহ বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রশিক্ষণের গুণগত মান, জবাবদিহিতা, নিয়মিত উপস্থিতি, বাস্তব দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শিল্পবান্ধব ও ফলাফলভিত্তিক করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথিরা প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, তথ্যের নির্ভুলতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, সময়মতো অগ্রগতি প্রতিবেদন, মূল্যায়ন প্রস্তুতি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিল্প প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন, প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা, যন্ত্রপাতির প্রস্তুতি, তথ্য হালনাগাদ, মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থান সংযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, অ্যাসেট প্রকল্প, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি যৌথভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও মানসম্মত, ফলাফলভিত্তিক ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজার উপযোগী করে তুলতে কাজ করে যাবে।
//ডিবিটেক/বিইউ/এমআই//