ডাক, টেলিযোগাযোগ; তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম-এর বিশেষ সাক্ষাৎকার

‘জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতেই আইসিটি ও টেলিকম খাতকে পুনর্গঠন করতে চাই’

‘জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতেই আইসিটি ও টেলিকম খাতকে পুনর্গঠন করতে চাই’
১১ জুলাই, ২০২৬ ০০:৫৭  
১২ জুলাই, ২০২৬ ০১:০২  

২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই তিনি দেশের প্রযুক্তি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে দিকটায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত চার মাসে এই খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ ও সামনের দিনের পরিকল্পনা বিষয়ে কথা বলেছেন ডিজিবাংলা নির্বাহী সম্পাদক এস এম ইমদাদুল হক এর সঙ্গে। আলাপকালে জানিয়েছেন-  

  • ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর ৭০-৮০% কাজ শেষ করার পাশাপাশি 'ওয়ান সিটিজেন ওয়ান পোর্টাল' তৈরির কাজ চলছে।
  • প্রস্তাবিত 'টেলিকম অর্ডিন্যান্স' ও স্থগিত টেলিকম পলিসি পর্যালোচনা এবং অলস পড়ে থাকা হাই-টেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
  • ২০২৮ সালে মূল ঋণ পরিশোধ শুরুর আগেই ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালুর ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিস্তারিত  প্রশ্নোত্তরে। 


ডিজিবাংলা: মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার প্রধান অগ্রাধিকার বা কাজের মূল ভিত্তি কী? চার মাস পার হওয়ার পর বর্তমান অবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

ফকির মাহবুব আনাম: দেখুন, আইসিটি সেক্টরটা অত্যন্ত টেকনিক্যাল একটা জায়গা, আই মিন ভেরি ভেরি টেকনিক্যাল। আমি এখানে প্রতিদিন শিখছি, আই অ্যাম লার্নিং এভরিডে। গত ১৭ বছরে আমরা ‘আইসিটি’ ‘আইসিটি’ শব্দটা অনেক শুনেছি, কিন্তু গভীরে কতটুকু কাজ হয়েছে সেটা দেখার বিষয়। আমার কাজের মূল ভিত্তি হলো তিনটি স্তম্ভ— Accountability (জবাবদিহিতা), Transparency (স্বচ্ছতা), এবং Integrity (সততা) । এই তিনটি মটোর ওপর ভিত্তি করেই আমি মন্ত্রণালয় চালাতে চাই।

গত চার মাস আমি সবকিছু বোঝার চেষ্টা করেছি। অনেকে বলেন চার মাস অনেক সময়, কিন্তু এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বুঝতে গেলে চার মাস আসলে কোনো সময় না। আমি সিস্টেমটাকে একটা সঠিক ফাউন্ডেশনের ওপর দাঁড় করাতে চাই। আমাদের এই ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডাগুলো বর্তমান প্রশাসনের ৩১-পয়েন্ট মেনিফেস্টোর সাথে অ্যালাইন করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের ইমিডিয়েট প্রায়োরিটি হলো এই ডিসেম্বরের মধ্যে রানিং প্রজেক্টগুলোর ৭০ থেকে ৮০ পারসেন্ট কাজ কমপ্লিট করা। আই বিলিভ ইন ট্রান্সপারেন্সি। ফিউচার ইনভেস্টমেন্টগুলো শুধু প্র্যাক্টিক্যাল পাবলিক সার্ভিসের ওপর ফোকাস করবে, যেগুলোর ক্লিয়ার ইকোনমিক ভ্যালু আছে—কোনো ল্যাক অব ইকোনমিক ভ্যালুর প্রজেক্টে আমরা যাব না।

ডিজিবাংলা: থাইল্যান্ডের এসকেপ (ESCAP) সম্মেলন এবং জর্জিয়ার পাবলিক সার্ভিস ফোরাম থেকে বাংলাদেশের জন্য কী অর্জন বা শিক্ষণীয় আছে? ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান পোর্টাল’ নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

ফকির মাহবুব আনাম: সম্প্রতি আমি থাইল্যান্ডে ESCAP সম্মেলনে গিয়েছিলাম, যেখানে ৫৩টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। সেখানে ৩২টি ভোটের মধ্যে ২৯টি ভোট পেয়ে আমরা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আমি নিজে একটি সেশন চেয়ার করেছি এবং আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল আমার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে একটি বিউটিফুল লেটার দিয়েছেন। সেখানকার মূল থিম ছিল ‘No One Left Behind’ । অর্থাৎ দুর্গম অঞ্চলের মানুষ বা গরিব মানুষ যেন প্রযুক্তির সেবা থেকে পিছিয়ে না থাকে। রিমোট এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া আমাদের বড় লক্ষ্য।

এরপর জর্জিয়ার টিবলিসিতে পাবলিক সার্ভিস ফোরামে যোগ দিয়েছি। সেখানকার আলোচনা ছিল মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো নিয়ে। আমরা বর্তমানে ‘One Citizen One Portal’ নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, শিক্ষা, বিয়ে, চাকরির রেকর্ড এবং এমনকি কোনো মামলা-মোকাদ্দমার হিস্ট্রি আছে কি না—সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। জর্জিয়াতে আমি আজারবাইজান ও কাজাখস্তানের মন্ত্রীদের সাথে বাইল্যাটারাল মিটিং করেছি। তারা পাবলিক সার্ভিসে অনেক এগিয়ে গেছে, আমাদেরও সেই স্ট্যান্ডার্ডে যেতে হবে।

ডিজিবাংলা: আইসিটি ও টেলিকম খাতের প্রকিউরমেন্ট সিস্টেমে শুধুমাত্র ‘অভিজ্ঞতা’ (Experience-based) চাওয়ার কারণে নতুনরা বাধা পাচ্ছে। এমনকি টেন্ডারের শর্ত খামখেয়ালিভাবে পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট অপারেটরকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আছে। একই সাথে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাই-টেক পার্কগুলো কেন খালি পড়ে আছে?

ফকির মাহবুব আনাম: যারা আজকে ১০-১৫ বছরের অভিজ্ঞ, তাদেরও তো একসময় শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। আমি আপনাদের পয়েন্টটা বুঝতে পারছি। নিয়মের বাইরে তো কিছু করতে পারব না, তবে যদি কোনো বাইন্ডিংস বা রেস্ট্রিক্টিভ রিকোয়ারমেন্টস থাকে যা নতুনদের জন্য বাধা, তবে সেটা আমরা রিফর্ম করব যাতে একটা কম্পিটিটিভ বিডিং এনভায়রনমেন্ট তৈরি হয়। রেলওয়ের জয়দেবপুর থেকে জামতলী পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক বসানোর যে টেন্ডারটির কথা বললেন, যেখানে শর্ত ৫ বছর থেকে ৭ বছর করা হয়েছে—সেটি সরাসরি আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। তবে আইসিটি বা টেলিকমেও যদি এমন অভিজ্ঞতা বা শর্তের বেড়াজাল থাকে যা ব্যবসায়ী-বান্ধব নয়, তবে আমি সেটা পর্যালোচনা করব। আমরা অফিসারদের সাথে বসব যে নিয়মের মধ্যে থেকে কীভাবে এটাকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করা যায়।

আর পার্কগুলোর কথা যদি বলি—উই হ্যাভ বিল্ট মেনি বিল্ডিংস... দোজ আর লাইং আইডল, উই আর নট গেটিং ইনভেস্টরস। আমাদের হাইটেক পার্ক এবং ইনোভেশন সেন্টারগুলোতে ইনভেস্টর ও দক্ষ লোকবলের চরম অভাব আছে, এগুলো বিগত বছরগুলোতে কোনো এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করতে পারেনি। আমরা এখন এই ফ্যাসিলিটিগুলোকে প্রোডাক্টিভ ইউজে নিয়ে আসার জন্য একটা প্র্যাক্টিক্যাল স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপ করার কাজ করছি।

ডিজিবাংলা: মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বা NEIR এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত বিটিআরসি (BTRC) টেলিকম অর্ডিন্যান্স নিয়ে আপনাদের বর্তমান অবস্থান কী? স্থগিত টেলিকম পলিসি কোন পর্যায়ে রয়েছে? 

ফকির মাহবুব আনাম: দেখুন, দ্য প্রস্তাবিত টেলিকম অর্ডিন্যান্স (Telecom Ordinance) যেটা প্রিভিয়াস ইন্টারিম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্ট্রোডিউস করেছিল, সেটা আমাদের কাছে এসেছে এবং আমরা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করছি, যাতে এটি দেশের লং-টার্ম ইন্টারেস্ট সার্ভ করতে পারে। আর NEIR নিয়ে আমরা এখনো ডিটেইলড বসিনি। আমি জানি এটা নিয়ে একটা স্থবিরতা আছে। বিষয়টি আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমি আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করছি কোথায় সমস্যা। নিয়মের মধ্যে থেকে জনসাধারণের ভোগান্তি কমিয়ে কীভাবে সিস্টেমটাকে একদম সিমপ্লিফাই (Simplify) বা সহজ করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। একটু সময় দিন, আমরা সবকিছু স্ট্রেট আপ করার চেষ্টা করছি।

এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির জন্য আগের ‘টাইগার প্রজেক্ট’কে এখন ‘ডিজিটাল স্টার প্রজেক্ট’ (Digital Star Project) হিসেবে রি-লিস্ট করা হচ্ছে। আমাদের অফিশিয়ালরা এখন অ্যাসেস করছেন যে, আন্ডারগ্রাউন্ড নাকি ওভারহেড ফাইবার-অপটিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনটা সবচেয়ে বেশি ইফিসিয়েন্ট সলিউশন হবে। 

আর সবাইকে নিয়ে আমরা শিগগরিই পলিসি বিষয়ে মনোযোগী হব। একটু সময় দিন। আমি তো প্রতিদিন ১৪-১৮ ঘণ্টা কাজ করছি।

ডিজিবাংলা: বাজারে জোর গুঞ্জন আছে যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর 'টেলিটক' বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে এই বিষটিরর সত্যতা কতটুকু?

ফকির মাহবুব আনাম: আমি একদম পরিষ্কার করে রিঅ্যাফার্ম করতে চাই—গভর্নমেন্টের এই স্টেট-ওনড মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রি বা প্রাইভেটাইজ করার কোনো ইনটেনশনই নেই। উই নিড টেলিটক ইন দ্য মার্কেট। আমরা যদি এই মার্কেট সম্পূর্ণ প্রাইভেট অপারেটরদের হাতে ছেড়ে দিই, তবে কম্পিটিশন এফেক্টেড হবে। আমাদের লক্ষ্য টেলিটককে বিক্রি করা নয়, বরং একে মডার্নাইজ এবং এর কম্পিটিটিভনেস বাড়ানো। হ্যাঁ, বেশ কিছু কোম্পানি আমাদের কাছে টেলিটক আউটরাইট অ্যাকুইজিশন (পুরোপুরি কেনা) বা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের প্রপোজাল নিয়ে এসেছিল। কিন্তু প্রশাসন হিসেবে আমরা ফার্মলি তা রুলড আউট করেছি।

বিনিয়োগের ব্যাপারে বলি, প্রাইভেট মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের প্যারেন্ট কোম্পানি 'ভিওন' (VEON) রিসেন্টলি আমাদের টেলিটক এবং বিটিসিএল (BTCL)-এর সাথে কোলাবোরেশনের আগ্রহ দেখিয়েছে। ভিওন-এর চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা (Augie K. Fabela) গত ২৯ জুন প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সাথে দেখা করে বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোনমিতে '১ বিলিয়ন ইউএস ডলার' (1 billion US dollars) ইনভেস্টমেন্ট মোবিলাইজ করার প্লেজ নিয়েছেন। একর্ডিং টু দ্য প্রপোজাল—ভিওন নিজে লিড ইনভেস্টর হিসেবে '২৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার' ইনভেস্ট করবে এবং তাদের ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাকি ফান্ড নিয়ে আসবে। এই প্ল্যানড ইনভেস্টমেন্ট মূলত নেক্সট-জেনারেশন ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং অ্যাডভান্সড কানেক্টিভিটি টেকনোলজিতে ব্যবহার করা হবে।

ডিজিবাংলা: ‘নগদ’ নিয়ে আর্থিক অনিয়মের নানা তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে ১৭১ কোটি থেকে ১৭০০ কোটি টাকার দায়ের কথা বলা হচ্ছে। এই অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং ‘নগদ’ নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ফকির মাহবুব আনাম: নগদের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, তাই সরাসরি মন্তব্য করা কঠিন। এটার ফিউচার আমরা ডিসাইড করব অনলি আফটার অনগোয়িং লিগ্যাল প্রসিডিংস কনক্লুড। তবে এখানে কয়েকটা ফিগার আছে—১৭১ কোটি টাকার একটা তদন্ত রিপোর্ট আছে, আবার ৬০০ কোটি টাকার একটা দায়ের বিষয় আছে যা হয়তো হাতে ছিল। টোটাল লায়াবিলিটি ১৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। এখানে মূলত ‘E-money creation’ বা কৃত্রিম টাকা তৈরির মতো টেকনিক্যাল জালিয়াতি হয়েছে। বিগত ইন্টারিম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সময় থেকেই অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (দুদক) এটা ইনভেস্টিগেট করছে। টাকা একবার মানুষের পকেটে চলে গেলে উদ্ধার করা কঠিন (Once money leaves people's pockets, it is very difficult to recover), তবুও আমরা চেষ্টা করছি।

তবে শুনুন, আমি কেন নগদ-কে রক্ষা করতে বা এটার কন্টিনিউড প্রেজেন্স ডিফেন্ড করতে চাই? কারণ নগদ না থাকলে বিকাশের মতো কোম্পানিগুলোর ‘Monopoly’ বা একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে। তখন তারা ইচ্ছেমতো চার্জ বা প্রাইস বাড়িয়ে দেবে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নগদ একটি পাবলিক সার্ভিস, মার্কেটে ডমিনেন্স প্রিভেন্ট করতে এবং কম্পিটিশন বজায় রাখতে এর রোল ক্রুসিয়াল। তাই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত আমরা কোনো ডিসিশন নিচ্ছি না।

ডিজিবাংলা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি। কিন্তু ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল ঋণের বোঝা এবং ২০২৮ সাল থেকে মূল টাকা পরিশোধের যে চাপ, তা সামাল দিতে আপনাদের বর্তমান প্রযুক্তিগত ও আর্থিক ডেডলাইন কী?

ফকির মাহবুব আনাম: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ আছে। প্রকল্পের ঋণ প্রায় ১ লক্ষ বিষ্ময়কর—১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৮ সাল থেকে আমাদের ‘Principal Amount’ বা মূল টাকা পরিশোধ শুরু করতে হবে, এখন শুধু ইন্টারেস্ট (সুদ) দেওয়া হচ্ছে। ফলে এই প্রজেক্ট চালু করতে যত ডিলে হবে, দেশের ফিন্যান্সিয়াল বার্ডেন তত বাড়বে।

তাই এটাকে আমরা একটা ন্যাশনাল নেসেসিটি (National necessity) হিসেবে দেখছি। অলরেডি ফুয়েল লোডিং (Fuel loading) শুরু হয়ে গেছে। আমরা রাশিয়ান এক্সপার্টদের সাথে খুব ক্লোজলি কাজ করছি। যদি সবকিছু প্ল্যান অনুযায়ী চলে, তবে আমাদের টার্গেট হলো ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের মধ্যেই প্রথম ইউনিটটিকে ন্যাশনাল গ্রিডে কানেক্ট করা এবং এর মাধ্যমে একটা বড় মাইলফলক অর্জন করা।

ডিজিবাংলা: আপনার সাম্প্রতিক বিদেশ সফরগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে আপনার সফরসঙ্গীদের নির্বাচন এবং তাদের পেছনে ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী?

ফকির মাহবুব আনাম: আমার বিদেশ সফর নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যে খবরগুলো এসেছে—আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, সরকারি টাকা সাশ্রয় করার জন্য আমি অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খরচে এই সফরগুলো করেছি। আমার ব্যক্তিগত ব্যাকগ্রাউন্ড শুনুন—আমি বিএনপি’র জন্ম লগ্ন থেকে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছি। রাজনীতিতে আমি তৃতীয় প্রজন্ম। আবার ব্যবসায় বাণিহ্যে আমার একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমার জীবনে আমি ৫টি ওয়ার্ল্ড কাপ দেখেছি। আমার এখন পাওয়ার কিছু নেই। আমি কেবল দেশকে দেয়ার জন্য এখানে এসেছি। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি করেছে। আর প্রধানমন্ত্রী আমাকে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আমার ভোটারদের পুরস্কৃত করেছেন। তাই আমি শুধু সেবার জন্য, দেশের কল্যাণে কাজ করতে চেষ্টা করছি। যখন মেক্সিকো বা বড় বড় দেশে গেছি, প্রাউডলি বলেছি ‘আই অ্যাম ফ্রম বাংলাদেশ’। আমাদের এক্সপোজার দরকার। আজারবাইজান বা কাজাখস্তানে যখন যাই, তারা আমাদের পাবলিক সার্ভিসের প্রশংসা করে। আমি যখন এসকেপ-এ সেশন চেয়ার করি বা আইএইএ (IAEA) ডিরেক্টরের সাথে কথা বলি, তখন দেশের ইমেজ বাড়ে। আমরা যদি এই আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে না যাই, তবে আমরা গ্লোবাল ম্যাপ থেকে মাইনাস হয়ে যাব। তাছাড়া বিদেশের যখন একাধিক বৈঠক করতে হয় তখন আমার সহকারী দরকার হয়। আর সফরে অনেক খরচ আমি নিজেই করি। দেশের নয়; দাতা সংস্থার টাকায় নিয়ম মেনেই সফর সূচি ও সঙ্গী নির্বাচন করা হয়। তারপরও আমি কথা দিচ্ছি, সরকারি টাকা অনর্থক এক টাকাও ব্যয় করব না, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাব।

আর তথ্যের অবাধ প্রবাহের ব্যাপারে বলি—আগে অনেক সময় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। আপনাদের অফিসগুলো থেকে অনেক সময় রেসপন্স পাওয়া যায় না। কিন্তু আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করুন, প্রুফ নিয়ে আসুন। সত্য নিউজ দিলে আমরা নিজেদের সংশোধন করার সুযোগ পাই। কিন্তু দয়া করে কোনো অসত্য নিউজ বা গুজব ছড়াবেন না। এই যেমন কিছুদিন আগে ‘কালবেলা’ পত্রিকায় নিউজ হলো যে আমি নাকি ১৭০০ কোটি টাকায় ‘নগদ’ বিক্রি করে দিয়েছি! এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ফলস নিউজ। এমন নিউজ করলে ড্যামেজ কন্ট্রোল করা কঠিন হয়ে পড়ে। পত্রিকার মালিক পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু ‘Rejoinder’ তো কেউ পড়ে না, ড্যামেজ যা হওয়ার তা হয়েই যায়। আমি আপনাদের সাথে কোলাবরেশনে বিশ্বাস করি, আপনারা আমাকে টেক্সট করতে পারেন বা ফোন করতে পারেন।

 //ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই//