১৭ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করছে কয়েনবেস
ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা মোট কর্মীবাহিনীর ১৪ শতাংশ বা প্রায় ৭০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করছে।
এআই টুলের প্রভাবে বদলাচ্ছে কাজের ধরন
ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রায়ান আর্মস্ট্রং একটি ব্লগ পোস্টে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তাদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। আগে একটি দলের যে কাজ করতে সপ্তাহখানেক সময় লাগত, এখন এআই ব্যবহার করে একজন প্রকৌশলী তা মাত্র কয়েক দিনে সম্পন্ন করছেন। এমনকি কারিগরি জ্ঞান নেই এমন কর্মীরাও এখন এআই-এর সহায়তায় কোডিং করতে পারছেন।
প্রতিষ্ঠানটি এখন ‘ওয়ান পারসন টিম’ বা একজনের দল নিয়ে কাজ করার পরীক্ষা চালাচ্ছে, যেখানে একজন ব্যক্তিই প্রকৌশল, নকশা এবং পণ্য ব্যবস্থাপনার কাজ একাই সামলাবেন।
সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন
কয়েনবেস তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও ছোট ও গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সিইও এবং সিওও পদের নিচে মাত্র পাঁচটি স্তর থাকবে। এছাড়া ব্যবস্থাপকদের ওপর কাজের চাপ বাড়ানো হচ্ছে এবং একেকজন নেতার অধীনে ১৫ জনেরও বেশি কর্মী সরাসরি কাজ করবেন।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে জমা দেওয়া নথিতে কয়েনবেস জানিয়েছে, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার ফলে বিদায়ী কর্মীদের সেভারেন্স পে বা ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি ডলার খরচ হতে পারে।
আর্মস্ট্রং বলেন, “ক্রিপ্টো বাজারের মন্দাভাব এবং অস্থিরতার কারণে আমাদের খরচ কমাতে হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে আরও দক্ষ এবং শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে চাই।” উল্লেখ্য, গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে বড় ধরনের দরপতন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ



