গাছের তথ্য হবে ডিজিটাল
বৃক্ষরোপণে আসছে ট্রি মনিটরিং অ্যাপ
- গাছের অবস্থান ও ছবি অ্যাপে সংরক্ষণ
- সারভাইভাল রেট নজরদারিতে জাতীয় ব্যবস্থা
- এনজিওগুলোকে জিও-কোঅর্ডিনেট ট্র্যাকিংয়ের প্রস্তুতি
বৃক্ষরোপণের পর গাছের অবস্থান, বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার (সারভাইভাল রেট) ডিজিটালভাবে নজরদারিতে আনতে জাতীয় পর্যায়ে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অ্যাপটিতে জিও-কোঅর্ডিনেটের মাধ্যমে গাছের অবস্থান সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাছ বা গুচ্ছ গাছের ছবি আপলোডের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে রোপণ করা গাছের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান ও টিকে থাকার তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘এনজিও কর্তৃক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি বিষয়ে মতবিনিময় সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ এসব তথ্য জানান।
ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, আগের বিভিন্ন প্রকল্পে রোপণ করা গাছ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অনেক গাছ মারা গেছে। ফলে পরবর্তী বছর একই স্থানে আবারও বৃক্ষরোপণ করতে হয়েছে। এ ধরনের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত সবুজ আচ্ছাদন (গ্রিন কভারেজ) পর্যবেক্ষণের জন্য জাতীয় ট্রি মনিটরিং অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে তিনি জানান, আগামী জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ১২০টির বেশি এনজিও বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত ৮৩টি এনজিওর কাজের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি এনজিওগুলোকে দ্রুত সঠিক তথ্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাপটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আগেই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ফিল্ড লেভেলের মনিটরিং অফিসারদের এখন থেকেই জিও-কোঅর্ডিনেট (Geographical Coordinates) ট্র্যাক করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অ্যাপে নির্দিষ্ট
সময় পরপর প্রতিটি গাছ বা গুচ্ছ গাছের বর্তমান অবস্থার ছবি আপলোড করতে হবে। বড় বনাঞ্চলের মতো এলাকায় ছবি ধারণ ও আপলোডের ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সভায় এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে প্রোটোকল-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জানান, কোন অঞ্চলে কোন ধরনের গাছ রোপণ উপযোগী, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নির্দেশনা দ্রুত সব এনজিওর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরাসরি সহায়তার জন্য শিগগিরই নির্ধারিত ফোন নম্বর ও ইমেইলভিত্তিক হেল্পডেস্ক চালুর কথাও জানান তিনি।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
//ডিবিটেক/বিএমসি/এসএমই/এমআইএসটি//





