রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ চার দিন
ভারতীয় প্রকৌশলীর অপেক্ষা!
- রামপালের দ্বিতীয় ইউনিট চার দিন ধরে বন্ধ
- উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে
- ভারতীয় দুই বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী এখনো আসেননি
দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিট চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও কারিগরি জটিলতার কারণে ইউনিটটি বন্ধ থাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে লোডশেডিং আরও তীব্র হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দ্বিতীয় ইউনিটের ত্রুটি সারাতে ভারত থেকে আসার কথা থাকা দুই বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী বাংলাদেশে পৌঁছাননি। ফলে ইউনিটটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময় জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বয়লারের মেরামতের প্রাথমিক কাজ দেশীয় প্রকৌশলীরা শুরু করেছেন। ভারতীয় দুই বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী পৌঁছানোর পর বয়লারের বাকি কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হবে। তারা আসার পরও ইউনিটটি চালু করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।
বন্ধ হওয়ার আগে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। যান্ত্রিক ও কারিগরি সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি এর পূর্ণ ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতায় নিয়মিত উৎপাদন করতে পারেনি। দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়।
রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে চুক্তি সই হয়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হয়।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদনে যায় দ্বিতীয় ইউনিট। এরপর ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে ৩০ বারের বেশি কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
//ডিবিটেক/বিএমও/এসএমই/এমবআইএস//





