অ্যানথ্রপিকের আইপিওতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আলোচনায় এনভিডিয়া

অ্যানথ্রপিকের আইপিওতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আলোচনায় এনভিডিয়া
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০৮  

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের দিকে এগোচ্ছে চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের এই স্টার্টআপটির আইপিওতে প্রধান প্রাথমিক বা ‘অ্যাঙ্কর’ বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে চিপনির্মাতা জায়ান্ট এনভিডিয়া। বিষয়টির সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। 

২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের ঐতিহাসিক অফার 
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে অ্যানথ্রপিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূলধন তোলার চেষ্টা করছে। সফল হলে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে। 

এই বিশাল আইপিওতে এনভিডিয়া সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনা করছে। যদিও আলোচনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও। 

এনভিডিয়া ও অ্যানথ্রপিকের কৌশলগত সম্পর্ক 
এনভিডিয়ার মতো বড় কৌশলগত বিনিয়োগকারীর অন্তর্ভুক্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের শেয়ার নিয়ে আস্থা বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে ক্লড মডেলে বিপুল ব্যবহারের কারণে অ্যানথ্রপিকের প্রসেসিং ক্ষমতার ওপর চাপ পড়ছে, যার বড় অংশই মেটায় এনভিডিয়ার জিপিইউ চিপ। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও অ্যানথ্রপিকে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সমঝোতা করেছিল এনভিডিয়া। 

চিপ নির্ভরতা ও বহুমুখী অংশীদারিত্ব 
কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হার্ডওয়্যার খরচ নিয়ন্ত্রণে অ্যানথ্রপিক এখন থেকেই নিজস্ব কাস্টম চিপ ডিজাইনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে তারা। 

গত এপ্রিলে অ্যামাজনের এডব্লিউএস সেবার জন্য পরবর্তী এক দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এছাড়া গুগলের তৈরি টিপিইউ প্রসেসর ব্যবহারের বিষয়েও পৃথক চুক্তি রয়েছে স্টার্টআপটির।

নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের আগেই তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা 
২০২৫ সালের শেষভাগে যেখানে অ্যানথ্রপিকের বার্ষিক অর্জিত আয় ছিল ৯ বিলিয়ন ডলার, ২০২৬ সালের জুলাই শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৮ সাল নাগাদ বার্ষিক আয় ১৯০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করছে তারা। 

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির এ প্রক্রিয়াটি শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স