ডিজাইন পরিবর্তন ও পুরাতন চিপে ছোট ব্র্যান্ডগুলোর টিকে থাকার লড়াই
মেমোরি চিপের অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়ে পণ্যের সার্বিক ডিজাইন পরিবর্তন, যন্ত্রাংশ পরীক্ষা এবং খরচ সমন্বয়ের মতো ভিন্ন কৌশল নিতে বাধ্য হচ্ছে ইন্ডিপেনডেন্ট ও ছোট আকারের স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফেয়ারফোন, জোলা এবং ফ্রেমওয়ার্কের মতো টেকসই ও মেরামতযোগ্য ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে চিপের অতিরিক্ত দামের চেয়েও তা সংগ্রহ বা বরাদ্দ পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিপ প্রস্তুতকারক এসকে হাইনিক্সের প্রধান নির্বাহীর মতে, চিপ সরবরাহের দিক থেকে ২০২৭ সাল হবে প্রযুক্তি শিল্পের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বছর এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই ঘাটতি বজায় থাকতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেমোরি চিপের সংকটের কারণে চলতি বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ ১৩.৯ শতাংশ কমে ১০৮ কোটি ইউনিটে নেমে আসতে পারে, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
প্রায় ৪০০ ডলার মূল্যের হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে কেবল মেমোরি অংশের পেছনেই মোট উপাদানের খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কম দামি বা এন্ট্রি-লেভেলের ফোন তৈরি করা এখন আর লাভজনক থাকছে না।
ট্রেন্ডফোর্সের তথ্য মতে, বছরের শুরুতে ডির্যাম চিপের চুক্তিভিত্তিক দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়লেও বর্তমানে সেই ঊর্ধ্বমুখী গতি কিছুটা কমে ১৩ থেকে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, তবে সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
বিপুল পরিমাণে কাঁচামাল মজুত রাখার সামর্থ্য না থাকায় এই সংকটে টিকে থাকতে অভিনব পথ বেছে নিচ্ছে ছোট কোম্পানিগুলো। ফিনল্যান্ডের মোবাইল ব্র্যান্ড ‘জোলা’ তাদের ডিভাইসের মাদারবোর্ডে পরিবর্তন এনেছে, যাতে কম্বাইন্ড প্যাকেজ পাওয়া না গেলে পৃথক চিপ বসানো সম্ভব হয়।
পাশাপাশি বাজারে জাল ও রিফার্বিশড চিপ নতুন বলে বিক্রির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি লটের নমুনা মাননিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করছে তারা।
অন্যদিকে, মার্কিন ল্যাপটপ নির্মাতা ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ মডুলার স্ট্রাকচার ব্যবহার করায় গ্রাহকেরা পুরোনো ল্যাপটপ থেকে মেমোরি চিপ খুলে নতুন ডিভাইসে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। ডিভাইস ভেদে এই বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে কেউ দাম বাড়াচ্ছে, আবার কেউ মেমোরি আপগ্রেডের জন্য আলাদা ফি যুক্ত করছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





