প্রযুক্তির নগর শেনজেন ও বাংলাদেশের নাগরিক ভাবনার ভবিষ্যৎ
|
গত ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর চীনের কুয়াংচৌ শহরে ঐতিহ্যবাহী আসন্ন সিআইও ফেয়ারের পার্শ্ববর্তী প্রযুক্তি নগরী সেনজেন পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল আমার। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সিআইওই চায়না আন্তর্জাতিক অপটোইলেকট্রনিক প্রদর্শনী (সিআইও) থেকে আমার সঙ্গে আইএসপি, আইটি ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই মেলায় অংশ নেন।
এটি বলে রাখা ভালো যে, এই মেলায় অংশগ্রহণ ছিল সবার ব্যক্তিগত বা নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে। সেখানে দেখা হয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিঠু হাওলাদার, সেলিমসহ প্রায় ৫০ জন সদস্যের সঙ্গে। তাঁরা তিন দিন ধরে মেলা ঘুরে দেখেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, উন্নত প্রযুক্তি পণ্যের ক্রয়াদেশ দেন এবং সরাসরি অত্যাধুনিক হাই-টেক ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।
সিআইও ফেয়ার মূলত চীনের উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী। তবে এই সফর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা, সহজলভ্য নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখাকে অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার এক বিরল অভিজ্ঞতা।
সেনজেন শহর ঘুরে এবং চীনের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে মনে একটি প্রশ্ন বারবার জেগেছে—চীন যেভাবে প্রযুক্তিকে সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে একীভূত করে এগিয়ে চলেছে, বাংলাদেশ কি একইভাবে প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক কল্যাণ ও জীবনমানের অংশ করে তুলতে পারছে?
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ব্যবধান কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা আকাশচুম্বী অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই পার্থক্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, নিখুঁত বাস্তবায়ন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনার মধ্যেও স্পষ্ট। তবে এই তুলনার উদ্দেশ্য চীনের সবকিছুকে অন্ধভাবে আদর্শ কিংবা বাংলাদেশের অর্জনকে খাটো করে দেখা নয়। বরং একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক ও অধিকারকর্মী হিসেবে চীনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে শিক্ষা নিতে পারে, সেই নীতিগত পথরেখা খোঁজাটাই মূল লক্ষ্য।
সেনজেন: নিছক শহর নয়, পরিকল্পিত উন্নয়নের মডেল
চীনের সেনজেন একসময় ছিল একটি ক্ষুদ্র ও অনুন্নত সীমান্ত জনপদ। ১৯৭৯-৮০ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) হিসেবে ঘোষণার পর, কয়েক দশকের ব্যবধানে শহরটি আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি, হার্ডওয়্যার উৎপাদন ও উদ্ভাবনী হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সেনজেনের রূপান্তর প্রমাণ করে—একটি নগরীকে আধুনিক করে তোলার অর্থ কেবল কাচের বহুতল ভবন, প্রশস্ত রাজপথ বা দৃষ্টিনন্দন উড়ালসড়ক নির্মাণ নয়। একটি আধুনিক শহরের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার সমন্বিত গণপরিবহন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং হয়রানিমুক্ত ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসে।
শহরের প্রতিটি কোণে প্রযুক্তির প্রয়োগ, বৈদ্যুতিক বাসের সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্ক, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং উন্মুক্ত জনপরিসরের বিন্যাস দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়—সেখানে নগর উন্নয়নকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আগামী দশকের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও আধুনিক সেবার চাপও আগাম বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আমাদের দেশে নগর উন্নয়ন প্রায়ই বিচ্ছিন্ন কোনো মেগা প্রকল্প, নতুন ফ্লাইওভার বা সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রকল্প শেষের পর তা কীভাবে পরিচালিত হবে, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় কীভাবে হবে এবং নাগরিকের প্রাত্যহিক দুর্ভোগ কতটা কমবে—সেই প্রশ্নগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপেক্ষিত থেকে যায়। সেনজেনের অভিজ্ঞতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—অবকাঠামো নির্মাণই শেষ কথা নয়; তাকে কার্যকর, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব করাই প্রকৃত উন্নয়ন।
প্রযুক্তি যখন প্রদর্শনীর বদলে নাগরিক জীবনের অংশ
সিআইও ফেয়ারে আধুনিক ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট আইওটি ডিভাইস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সমন্বিত যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে গভীর ধারণা পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এসব আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি কেবল দামি স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের চটকদার বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি বণ্টন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, টেলিমেডিসিন, স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিই মূল চালিকাশক্তি।
চীনের স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনা দেখে উপলব্ধি করা যায়—বিদেশ থেকে কেবল দামি গ্যাজেট বা সার্ভার আমদানি করলেই 'স্মার্ট নগরী' গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার (Interoperable Database), প্রশিক্ষিত জনবল, শতভাগ স্থিতিশীল বিদ্যুৎ গ্রিড, মানসম্মত ব্যান্ডউইথ এবং সর্বোপরি একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো।
আমরা প্রায়ই 'ডিজিটাল' বা 'স্মার্ট' সেবার কথা বলি। কিন্তু বাস্তবে দেশের সাধারণ নাগরিককে একটি সাধারণ সনদপত্র বা সরকারি সেবা নিতে আজও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হয় এবং সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। প্রযুক্তি তখনই সফল, যখন নাগরিক ঘরে বসেই কয়েক ক্লিকে জন্মনিবন্ধন, ভূমিসেবা, কর পরিশোধ কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট ফলাফল হাতে পান। প্রযুক্তি যদি নাগরিকের সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক হয়রানি লাঘব করতে না পারে, তবে তা নিছক প্রচারণার প্রযুক্তি—জনকল্যাণের প্রযুক্তি নয়।
নগর পরিচালনায় সমন্বয়হীনতা ও বাংলাদেশের সংকট
সেনজেনের মতো মেগাসিটিতে নগর ব্যবস্থাপনা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিপুল জনসংখ্যা ও শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য সেখানে রয়েছে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি।
বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার প্রধানতম সংকট হলো দায়িত্বের তীব্র বিভাজন এবং আন্তঃসংস্থার চরম সমন্বয়হীনতা। সড়ক নির্মাণ করে একটি বিভাগ, পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ করে অন্য সংস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করে পৃথক দুটি দপ্তর, আবার ইন্টারনেট বা ক্যাবল অপারেশনের জন্য চলে আলাদা লাইন টানাটানি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই অন্য সংস্থার কাজের নামে তা খুঁড়ে ফেলা হয়। এই সমন্বয়হীনতার চূড়ান্ত মাশুল দেন সাধারণ করদাতা—যানজট, জলাবদ্ধতা আর সরকারি অর্থের অপচয়ের মধ্য দিয়ে।
একটি সড়ক নির্মাণের আগেই সেখানে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ, অপটিক্যাল ফাইবার ডাক্ট, সুয়ারেজ এবং গ্যাস পাইপলাইনের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সমন্বিত সমন্বয় থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা যুক্ত না থাকলে টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব।
প্রযুক্তির ভোক্তা থেকে উৎপাদক হওয়ার প্রত্যয়
বাংলাদেশে টেলিকম, মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সে ঈর্ষণীয় বিস্তার ঘটেছে। তরুণ সমাজের প্রযুক্তিমুখী মনোভাব আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তির মূল দুর্বলতা হলো—আমরা এখনো কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা (Consumer), উৎপাদক (Producer) নই।
আমরা শত শত কোটি ডলার খরচ করে হ্যান্ডসেট, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, সার্ভার ও সফটওয়্যার আমদানি করি। অথচ নিজস্ব চিপ ডিজাইন, উচ্চতর প্রযুক্তি গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হার্ডওয়্যার উৎপাদন এবং সফটওয়্যার পেটেন্ট তৈরিতে আমাদের অংশগ্রহণ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।
সিআইও ফেয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে—বাংলাদেশ কি অনন্তকাল আমদানিনির্ভর থাকবে, নাকি নিজস্ব উৎপাদনশীলতার বিকাশ ঘটাবে? এর জন্য প্রয়োজন:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গবেষণায় (R&D) জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ বৃদ্ধি;
- বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ কারিগরি গবেষণা;
- হার্ডওয়্যার ও ভিএলএসআই (VLSI) প্রকৌশলী তৈরির জাতীয় উদ্যোগ;
- দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর শুল্ক ও নীতিগত প্রণোদনা;
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও অর্থায়ন।
জ্বালানি ও ইন্টারনেট: জাতীয় অর্থনীতির হৃৎস্পন্দন
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটকে পৃথক কোনো বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই ডেটা সেন্টার অচল হয়ে পড়ে, মোবাইল টাওয়ার নিষ্ক্রিয় হয় এবং ব্যাংক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেম মুখ থুবড়ে পড়ে।
তাই ডিজিটাল অবকাঠামোর পূর্বশর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ, ব্যাকআপ পাওয়ার গ্রিড এবং দেশব্যাপী মানসম্মত হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড ফাইবার নেটওয়ার্ক। অবকাঠামো নির্ভরযোগ্য না হলে কোনো ডিজিটাল রূপান্তরই টেকসই হতে পারে না।
স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ছাড়া রূপান্তর অসম্ভব
উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সচিবালয় বা মন্ত্রণালয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের একটি বড় প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা। ঢাকা বা জেলা শহরের নাগরিক ড্রেনেজ বা সড়কের সমস্যা সমাধানের অনুমোদন যদি কেন্দ্রীয় স্তরের আমলাতন্ত্রে আটকে থাকে, তবে দ্রুত ও কার্যকর নাগরিক সেবা দেওয়া অসম্ভব।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। একই সঙ্গে জনসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু করা প্রয়োজন—যেখানে নাগরিকের অভিযোগ কোথায় পেন্ডিং আছে এবং কত দিনে সমাধান হবে, তা প্রকাশ্য থাকবে।
সেনজেন ও কুয়াংচৌ সফরের অভিজ্ঞতা এই সত্যটি আবারও প্রমাণ করেছে—কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল মোট জাতীয় আয়ের সংখ্যাতত্ত্বে নয়; বরং নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবন কতটা স্বাচ্ছন্দ্যময়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ হলো, সেটিই অগ্রগতির মূল মাপকাঠি।
চীন আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি, শিল্পনীতি ও জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপনাকে একই সূত্রে গাঁথা যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে সমন্বিত পরিকল্পনা, দেশীয় উদ্ভাবন এবং নাগরিকবান্ধব সেবার শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের জন্য এখন অপরিহার্য।
উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল ইট-পাথরের শহর গড়ে তোলা নয়; মানুষের জীবনকে সহজ ও অর্থবহ করা। আর সেই জনকল্যাণমূলক দর্শনের ওপর দাঁড়িয়েই পরিচালিত হোক বাংলাদেশের আগামীর প্রযুক্তি ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা।
লেখক || সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিএ); প্রযুক্তি ও ভোক্তা অধিকার গবেষক এবং কলামিস্ট
এডিটরস || আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা লেখকের নিজস্ব মূল্যায়ন। নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ এবং টেকসই নগর পরিকল্পনা বিনির্মাণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিবন্ধটি প্রয়োজনীয় তথ্যগত প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।





