শিশু চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি

নিনমাসে প্রথম পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন প্রশিক্ষণ

  • শিশুদের রোগ নির্ণয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন প্রযুক্তির গুরুত্ব
  • HIDA, DMSA ও Meckel’s scan নিয়ে প্রশিক্ষণ
  • ব্রেইন পারফিউশন পরীক্ষায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নির্ণয়

নিনমাসে প্রথম পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন প্রশিক্ষণ
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৯  

শিশুদের জটিল রোগ নির্ণয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (নিনমাস)-এ প্রথমবারের মতো পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিশুদের বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া, কিডনি ও অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা নির্ণয়ের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে ব্রেইন পারফিউশন পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাজধানীর নিনমাসের কামাল উদ্দিন আহমেদ অডিটরিয়ামে ‘Inauguration of Training Programme on Pediatric Nuclear Medicine: Scintigraphy, SPECT-CT and Clinical Practice’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নিউক্লিয়ার মেডিসিন, পেডিয়াট্রিকসহ বিভিন্ন বিভাগের মোট ১৮ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশ নেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা। তিনি শিশুদের চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিনের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুদের বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া শনাক্তে HIDA scan, DTPA ও DMSA renal scan, অন্ত্রের রক্তক্ষরণ শনাক্তে Meckel’s scan এবং মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে brain perfusion test ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিনমাসের পরিচালক ও বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, নিনমাসের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারই প্রথম পেডিয়াট্রিক নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ওপর এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। নিউক্লিয়ার মেডিসিন একটি বহুমাত্রিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিউক্লিয়ার মেডিসিনের বিভিন্ন প্রযুক্তির পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম, ডপলার, ইলাস্টোগ্রাফি ও পিইটি-সিটি (PET-CT) রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক ফজলুল বারী আরও জানান, নিনমাসের থাইরয়েড বিভাগে প্রায় ১১ হাজার থাইরয়েড ক্যান্সার রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. রোকুনজ্জামান, চেয়ারম্যান, পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও নিউট্রিশন; অধ্যাপক ডা. হেলেনা বেগম, পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি ও অনকোলজি; অধ্যাপক ডা. গালমা জাহান, পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি; এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ বদরুল আলম।
//ডিবিটেক/পিকেপি/এসএমই/এমআইএসটি//