১.৫ বিলিয়ন ডলারের সেবা রপ্তানি বাড়াতে ব্যাংকিং সংযোগে জোর

রপ্তানিতে আইটিইএস খাতে নীতিসহায়তা চাইল বাক্কো

  • রপ্তানি লক্ষ্য নির্ধারণ সভায় আইটিইএস খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরল বাক্কো
  • ফ্রিল্যান্সার আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
  • নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

রপ্তানিতে আইটিইএস খাতে নীতিসহায়তা চাইল বাক্কো
২৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৪  

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা (আইটিইএস), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত করতে নীতিগত সহায়তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ নিয়ে ২৬ জুলাই, রবিবার অনুষ্ঠিত সভায় এসব বিষয় তুলে ধরেন বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

আইটিইএস খাতে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি
সভায় তানভীর ইব্রাহীম বলেন, বর্তমানে দেশের বিপিও, ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটিইএস খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সঠিক নীতিগত সহায়তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এ শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হতে পারে।

তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (BPO), নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (KPO), ডিজিটাল কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স (CX) এবং সফটওয়্যারভিত্তিক সেবার বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় আনার প্রস্তাব
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাক্কো সভাপতি বলেন, দেশের আইটিইএস ও আউটসোর্সিং খাত থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসে না।

তার ভাষ্য, বাস্তব নানা কারণে অনেক বিপিও প্রতিষ্ঠান ও ফ্রিল্যান্সার তাদের বৈদেশিক আয় অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে দেশে আনছেন অথবা বিদেশেই সংরক্ষণ করছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে খাতটির জন্য কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্রিল্যান্সার আইডির সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা, যাতে বৈদেশিক আয় সহজেই আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনা যায়।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসিটি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাক্কোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নীতিগত সহায়তার আশ্বাস
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান আইটিইএস, বিপিও ও আউটসোর্সিং শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বাক্কো আশা প্রকাশ করেছে, জাতীয় রপ্তানি নীতিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া হলে দেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্প আরও গতিশীল হবে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে খাতটি আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
//ডিবিটেক/ বিসিএ/ এমএসআই//