শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫% র‍্যানসমওয়্যার হামলা আইডেন্টিটি-ভিত্তিক

  • • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‍্যানসমওয়্যার হামলাই আইডেন্টিটি বা অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরির মাধ্যমে সংঘটিত
  • • ডেটা পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় খরচ হয়েছে ২২.৬ লাখ ডলার এবং ২৬% ক্ষেত্রে সময় লেগেছে ১-৩ মাস
  • • এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে বৃদ্ধি পেয়েছে আইটি টিমের মানসিক চাপ; তবে এনক্রিপশন ৬১% পর্যন্ত বেড়েছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫% র‍্যানসমওয়্যার হামলা আইডেন্টিটি-ভিত্তিক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৮  

বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হওয়া ৮৫ শতাংশ র‍্যানসমওয়্যার হামলাই আইডেন্টিটি-ভিত্তিক অর্থাৎ অ্যাকাউন্টের সংবেদনশীল তথ্য ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়েছে। ক্ষতিকর ই-মেইল, ফিশিং, চুরি করা লগইন ক্রেডেনশিয়াল এবং ব্রুট-ফোর্স পদ্ধতির সমন্বয়ে এসব সাইবার আক্রমণ চালানো হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সফোসের বার্ষিক ‘স্টেট অব র‍্যানসমওয়্যার ইন এডুকেশন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৭টি দেশের ২২৬ জন আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ওপর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে সফোস বাংলাদেশ থেকে রবিবার এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাইবার হামলার প্রধান ভেক্টর বা মাধ্যম ছিল ক্ষতিকর ই-মেইল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৯ শতাংশ হামলার পেছনে প্রধান কারণ ছিল এটি। এছাড়া ৭৭ শতাংশ উচ্চশিক্ষা এবং ৭১ শতাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের মারাত্মক আইডেন্টিটি অ্যাটাকের সঙ্গে সরাসরি র‍্যানসমওয়্যার জড়িত ছিল। হামলার পর ডেটা ও সিস্টেম পুনরুদ্ধারে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের এক মাসের বেশি সময় লেগেছে এবং ২৬ শতাংশের সময় লেগেছে এক থেকে তিন মাস। এতে গাণিতিকভাবে গড় পুনরুদ্ধার খরচ দাঁড়িয়েছে ২২.৬ লাখ ডলার এবং মুক্তিপণের গড় দাবি ছিল ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ ডলার।

সফোসের চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার রস ম্যাককারচার বলেন, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় বাজেট ও রিসোর্স সীমিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আইডেন্টিটি চুরির কারণে হামলাগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুত ও জটিল হচ্ছে। ফলে আগাম হুমকি শনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, নিরাপত্তা ঘাটতি থাকলেও এনক্রিপশন প্রয়োগের হার ২০২৫ সালের ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৬১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে আইটি কর্মীদের ওপর মানসিক চাপ চরম বৃদ্ধি পেয়েছে; উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৩ শতাংশ টিম অতিরিক্ত মানসিক চাপের কথা জানিয়েছে এবং ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে কর্মীরা নিয়মিত অনুপস্থিত থাকছেন।
//ডিবিটেক/এসজিএপি/এসএমই/ পিএমএস//