আলামতের বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়নের আহ্বান

সালমান শাহর মৃত্যুতে ছবির ডিজিটাল ফরেনসিকের তাগিদ দিলেন তানভীর জোহা

  • সালমান শাহ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনে ছবির ফরেনসিক পরীক্ষার পরামর্শ
  • ডিজিটাল ছবিতে মূল নেগেটিভ ও মেটাডেটা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
  • কেবল একটি ছবির মাধ্যমে পরকীয়া বা হত্যাকাণ্ড প্রমাণ অসম্ভব দাবি

সালমান শাহর মৃত্যুতে ছবির ডিজিটাল ফরেনসিকের তাগিদ দিলেন তানভীর জোহা
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৪  
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯  

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ছবির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। ছবিটিকে বিচারিক আলামত হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুসরণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

৭ সেপ্টেম্বর, সোমাবার  সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা জানান, বইটি বা ছবিটি যদি ফিল্ম ক্যামেরায় তোলা হয়ে থাকে, তবে এতে বর্তমান ডিজিটাল ছবির মতো EXIF মেটাডেটা থাকবে না। তাই অনলাইনে থাকা JPEG ফাইলের মেটাডেটা দিয়ে মূল ছবির তারিখ নির্ধারণ করা নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হবে ছবিটির মূল নেগেটিভ। নেগেটিভ পাওয়া গেলে ফিল্ম স্টক, এজ মার্কিং, ফ্রেম নম্বর ও গ্রেইন প্যাটার্ন পরীক্ষা করে ছবির সত্যতা ও ডার্করুম ম্যানিপুলেশন যাচাই করা সম্ভব।”

মূল নেগেটিভ পাওয়া না গেলে প্রথম প্রজন্মের ফটোগ্রাফিক প্রিন্ট সংগ্রহ করে SHA-256 হ্যাশ (hash) তৈরির মাধ্যমে আইনি চেইন অব কাস্টডি রক্ষার পরামর্শ দেন তিনি।

সফটওয়্যারের সাহায্যে পিক্সেল অসংগতি বা এডিটিং পরীক্ষা করার কথা উল্লেখ করে তানভীর জোহা বলেন, “কেবল কোনো সফটওয়্যার বা এআই (AI) ডিটেক্টরের সংকেত দিয়ে ছবিকে সত্য বা মিথ্যা ঘোষণা করা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়। বিশেষ করে বায়োমেট্রিক ও ফেস-ম্যাচিং বিশ্লেষণের সময় বিশেষজ্ঞ দিয়ে মুখের গঠন, চোখের দূরত্ব ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সতর্কতার সঙ্গে তুলনা করতে হবে।”

ছবির আইনি প্রভাব ব্যাখ্যা করে তানভীর জোহা স্পষ্ট করেন, ছবিটি আসল এবং সেখানে সামিরাকে দেখা গেলেও, এককভাবে শুধু ছবি দিয়ে পরকীয়া বা হত্যাকাণ্ড প্রমাণ সম্ভব নয়। ছবিটি সর্বোচ্চ দুজন ব্যক্তির উপস্থিতি বা পরিচিতি নির্দেশ করতে পারে। হত্যা বা ষড়যন্ত্র প্রমাণের জন্য স্বাধীন আলামত, সাক্ষ্য এবং কল রেকর্ডের মতো দালিলিক প্রমাণের প্রয়োজন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ফরেনসিকের কাজ কোনো পক্ষের গল্পকে সত্য বানানো নয়; বরং নীরব স্তরগুলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞান যতটুকু সমর্থন করে, আদালতের সামনে ঠিক ততটুকুই উপস্থাপন করা।”
//ডিবিটেক/এনএপি/আইএইচ/এমএসআই//