ডিআরইউর ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ সেশনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও পেশাগত সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ
গুজব রূখে দিতে গণমাধ্যমে নিজস্ব ‘ফ্যাক্টচেক’ ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান প্রেস সচিবের
- গুজব ও অপপ্রচার রোধে প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য যাচাই (ফ্যাক্টচেক) ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত; স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা নয়
- সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, সংবিধানগত স্বীকৃতি ও সপ্তাহে ২ দিন ছুটির দাবি ডিআরইউ নেতৃত্বের
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সংবাদমাধ্যমে অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধ ও অপপ্রচার বন্ধে প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মতান্ত্রিক তথ্য যাচাই বা 'ফ্যাক্টচেক' ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রেস সচিব বলেন, "দেশের মানুষ এখন গুজব নিয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে শুরু করেছেন। ফেসবুকে কোনো খবর দেখলে তারা শুরুতেই বিশ্বাস না করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে যাচাই করেন। ফলে গুজব রুখতে তথ্য যাচাইয়ের কোনো বিকল্প নেই। অসত্য তথ্যের বিস্তার রোধে সংবাদমাধ্যমগুলোকে ফ্যাক্টচেক বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে এবং জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে।" এছাড়া অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভুল তথ্য সম্পর্কেও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে, তবে স্বাধীনতার অর্থ স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। একই সাথে সংবাদপত্রের মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা ও সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা প্রদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রেস সচিব জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে দেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। ডিআরইউ সভাপতি সাংবাদিকদের আইনি কাঠামোর আওতায় এনে পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সংবিধানে সাংবাদিকতাকে ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য ডেডিকেটেড সুবিধা এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য সপ্তাহে ২ দিনের ছুটির জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিমসহ কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। //ডিবিটেক/এফিবিএল/এসএমই/এমআইএস//





