সিসিটিভিতে মিলল হত্যার সূত্র

আইফোন ছিনিয়ে নিতে অপ্রতিমকে হত্যা

  • সিসিটিভি বিশ্লেষণে তিনজন গ্রেপ্তার
  • নিহতের আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ

আইফোন ছিনিয়ে নিতে অপ্রতিমকে হত্যা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০৫  

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশতিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র পাওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অন্য দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) এবং আরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় আটক মো. সিয়াম (১৯) নামের আরেক তরুণের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় গত রাতে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে শনাক্ত ও আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রযুক্তিগত প্রমাণ হিসেবেও সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুক্রবার রাতভর ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমকে এক যুবকের সঙ্গে সানন্দা পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই যুবককে সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে তুহিন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

শনিবার রাতে তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে অভিযুক্তদের অসম বয়সী বন্ধুত্ব ছিল। তারা কেউই অপ্রতিমের সহপাঠী নয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কেউ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়েছে, আবার কেউ অনিয়মিত শিক্ষার্থী।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। কোটবাড়ী-গন্ধমতি এলাকায় তাদের বাড়ি। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর অপ্রতিমের বাবা বলেছিলেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’ পুলিশের তদন্তে এখন সেই আশঙ্কারই সমর্থন পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান। আটক সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই করছে পুলিশ এবং মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।

//ডিবিটেক/বিটিও/এসএমই/বিপিও//