নতুন ভবনে বাড়বে নিরাপত্তা 

চট্টগ্রামের কারিগরি প্রশিক্ষণে ২ মিলিয়ন ডলার

  • চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণ
  • দুই তলা ভবনের ভিত্তি হবে ছয় তলার উপযোগী
  • ২০২৬-২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্প

চট্টগ্রামের কারিগরি প্রশিক্ষণে ২ মিলিয়ন ডলার
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪১  

চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প নিয়েছে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কইকা) ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো একাডেমিক ভবনের পরিবর্তে নতুন কাঠামোগতভাবে নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার কইকা ও ইআরডি এ প্রকল্পের রেকর্ড অব ডিসকাশন (RoD) স্বাক্ষর করেছে।

‘Ex-Post Management Project for Enhancing the Vocational Training Programme of BKTTC, Chittagong’ নামের প্রকল্পটি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এ কাজে সহযোগিতা করবে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিকেটিটিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা। এ জন্য বিদ্যমান পুরোনো একাডেমিক ভবন সরিয়ে নতুন, কাঠামোগতভাবে নির্ভরযোগ্য ভবন নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় দুই তলা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটির ভিত্তি এমনভাবে নকশা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে তা সর্বোচ্চ ছয় তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের উপযোগী থাকে।

কইকা ভবনের স্থাপত্য ও প্রকৌশল নকশা, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ভবন নিরাপদে ভেঙে ফেলার বিষয়ে কারিগরি পরামর্শও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ও কোরিয়ার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কইকা ‘Enhancing the Vocational Training Programme of TTC, Chittagong’ প্রকল্পে প্রায় ৪.৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিল।

নতুন প্রকল্পটি আগের সহযোগিতার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

কইকা বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, এই রেকর্ড অব ডিসকাশন বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। প্রকল্পটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশি কারিগরি পেশাজীবীদের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই প্রশিক্ষণ পরিবেশ তৈরির আশা করছে কইকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উইং চিফ বলেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কোরিয়া সরকার ও কইকার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

নতুন অবকাঠামোর ফলে প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষকদের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকেটিটিসির মানসম্মত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

উন্নত প্রশিক্ষণ অবকাঠামো দক্ষ কারিগরি জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত কইকা কোরিয়ার উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সংস্থাটি দ্বিপক্ষীয় দেশভিত্তিক প্রকল্প, উন্নয়ন পরামর্শ, বৈশ্বিক কর্মসূচি, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
//ডিবিটেক/এসবিই/এসএমই/এমআইএসটি//