টেকসই ডিজিটাল উদ্ভাবনে বিকাশের স্বর্ণপদক

ডিজিটাল লেনদেনে বছরে ১,২০০ টন কাগজ সাশ্রয়

  • ডিজিটাল লেনদেনে বছরে প্রায় ১,২০০ মেট্রিক টন কাগজ সাশ্রয়
  • মোবাইল আর্থিক সেবা গ্রাহকের যাতায়াত ও পরিবহনজনিত কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে
  • আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ বিবেচনাধীন

ডিজিটাল লেনদেনে বছরে ১,২০০ টন কাগজ সাশ্রয়
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০০  

প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও আর্থসামাজিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ESG Excellence Awards 2026’-এর ‘Excellence in Sustainable Product Innovation’ বিভাগে গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) পুরস্কার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু। এতে সরকারি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডেনমার্ক, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়ার মিশনপ্রধানরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ESG Institute Bangladesh এবং UN Global Compact Network Bangladesh যৌথভাবে এই পুরস্কারের আয়োজন করে। পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন ও সুশাসন—এই তিন ক্ষেত্রে উৎকর্ষ দেখানো প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল আর্থিক সেবার মূল কার্যক্রমে পরিবেশগত দায়িত্ব ও সামাজিক ক্ষমতায়ন যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিকাশের ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কাগজের ব্যবহার সাশ্রয় হচ্ছে। মোবাইল আর্থিক সেবায় রূপান্তরের ফলে গ্রাহকদের শারীরিক সেবা কেন্দ্রে যাতায়াতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা পরিবহনজনিত কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

পরিবেশগত সুফলের পাশাপাশি বিকাশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বেতন বিতরণ, সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থ প্রদান, মানবিক সহায়তা, রেমিট্যান্স এবং আনুষ্ঠানিক আর্থিক পণ্যে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

পুরস্কারের জন্য জমা দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সঞ্চয় ও আনুষ্ঠানিক ঋণে প্রবেশাধিকার বাড়াতেও সহায়তা করেছে।

স্বীকৃতি প্রসঙ্গে বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) বলেন, “বিকাশে আমরা ESG-কে আলাদা কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখি না; বরং আমরা কীভাবে উদ্ভাবন করি, প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং মূল্য তৈরি করি, তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখি। এই স্বীকৃতি বিশেষভাবে অর্থবহ, কারণ এটি দেখিয়েছে কীভাবে ডিজিটাল আর্থিক উদ্ভাবন পরিবেশগত স্থায়িত্বে অবদান রাখার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অভিন্ন মূল্য তৈরি করতে পারে। এই স্বীকৃতির জন্য আমরা ESG Institute Bangladesh এবং UN Global Compact Network Bangladesh-এর প্রতি কৃতজ্ঞ। এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ও টেকসই বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীলভাবে উদ্ভাবন অব্যাহত রাখতে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।”

আগামী দিনে গ্রাহকের লেনদেনের নির্দিষ্ট মাইলফলকের সঙ্গে গাছ লাগানো ও পরিচর্যাকে যুক্ত করে প্রযুক্তিনির্ভর বনায়ন উদ্যোগ নিয়েও কাজ করার কথা ভাবছে বিকাশ।

ESG Excellence Awards-এর প্রথম আয়োজনে ৩২টি প্রতিষ্ঠান ও তিনজন ব্যক্তির ESG অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি রূপান্তর, পানি ব্যবস্থাপনা, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, কর্মীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, লিঙ্গসমতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা, টেকসই প্রতিবেদন এবং পণ্য ও ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ ২০টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়।
//ডিবিটেক/এমএসআর/এসএমই/এমআইএসটি//