জেমিনি ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের প্রমাণ

পরীক্ষায় এআই জালিয়াতি: ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত

  • গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে 'পরীক্ষা+২' ও 'পরীক্ষা+১' মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে ঢাবি সিন্ডিকেট
  • পরীক্ষার হলে জেমিনি সার্চে পাওয়া উত্তরের সাথে খাতার লেখার হুবহু মিল ও শৌচাগারের অসিলায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের প্রমাণ জব্দ
  • বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে অন্যায্য উপায় অবলম্বনের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে

পরীক্ষায় এআই জালিয়াতি: ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩১  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাতহুন কারিব চৌধুরী এবং মো. ফেরদাউস। কারিব চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য এবং ফেরদাউস হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা+২’ এবং ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা+১’ মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে কারিবের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকবে। একইভাবে ফেরদাউসের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি পরীক্ষা চলাকালে কারিব চৌধুরী মোবাইল ফোনে গুগলের এআই সেবা ‘জেমিনি’ ব্যবহার করে উত্তর লিখছিলেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সার্চ হিস্ট্রির মিল পেয়ে তার উত্তরপত্র ও ফোন জব্দ করেন। অন্যদিকে, বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালে বেলা ১১টার দিকে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে স্মার্টফোনে ‘চ্যাটজিপিটি’র মাধ্যমে প্রশ্ন অনুসন্ধানের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ফেরদাউস।

উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৩১ আগস্টের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। উল্লেখ্য, উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা+১’, ‘পরীক্ষা+২’ ও ‘পরীক্ষা+৩’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই অভূতপূর্ব ঘটনার পর পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়ম ঠেকানো এবং এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

//ডিবিটেক/ডিইএল/এসএমই/এমএইএস//