১৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা চাইলো ই-ক্যাব
দেশের ই-কমার্স খাতের বিকাশে 'ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি চেয়ে নীতিগত সহায়তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর প্রাক-বাজেট বৈঠকে ২৫ এপ্রিল, শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ই-কমার্স শুধু একটি ব্যবসায়িক খাত নয়, বরং এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাই এই খাতকে উৎসাহিত করতে করনীতি, অবকাঠামো এবং নীতিগত সহায়তার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবনার মধ্যে ই-কমার্স পণ্য সহ যেসকল পণ্যের স্বাভাবিক মূল্য এবং শুল্ক-কর সীমা উভয়ই ৫০০০ টাকার অনধিক এবং আমদানিকৃত পণ্যের বাণিজ্যিক নমুনা যার মূল্য অথবা কর এবং শুল্ক উভয়ই আলাদাভাবে ৫০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ, এমন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডি মিনিমিস সুবিধা চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ডিজিটাল মূসক- ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের জন্যে ডিজিটাল মূসকের প্রবর্তন করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউনিক অর্ডার নাম্বার বা লেনদেনের আইডি সংযুক্ত ই-মেইল বা এস এম এস কে মূসক ৬.৩ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়।
বৈঠকে ই-ক্যাব জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অফ সেক্রেটারিয়েট এস এস ইকরামুল হক বলেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ই-কমার্স খাতকে আরও সহায়ক নীতির আওতায় আনতে হবে। বর্তমানে কর জটিলতা, উচ্চ ভ্যাট এবং লজিস্টিক ব্যয়ের কারণে খাতটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন। তাই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সেবার ওপর কর রেয়াত দিলে খরচ কমবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে পণ্যের দামও সহনীয় থাকবে।
ই-ক্যাব থেকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সামনে পেশ করা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ ই-কমার্সনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কর জটিলতা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাধার কারণে অনেকেই টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করার আবশ্যক। এছাড়া সীমান্তপার ই-কমার্স (ক্রস-বর্ডার ট্রেড) সহজ করতে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনার ওপর জোর দেয় ই-ক্যাব। তারা মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারলে দেশীয় উদ্যোক্তারা বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় উত্থাপিত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের ই-কমার্স খাত আরও গতিশীল হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবিটেক/এসআই/এমইউআইএম







