১৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা চাইলো ই-ক্যাব

১৫ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা চাইলো ই-ক্যাব
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:১১  
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৫  

দেশের ই-কমার্স খাতের বিকাশে  'ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫  বছরের জন্য কর অব্যাহতি চেয়ে নীতিগত সহায়তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর প্রাক-বাজেট বৈঠকে ২৫ এপ্রিল, শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৫টি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ই-ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ই-কমার্স শুধু একটি ব্যবসায়িক খাত নয়, বরং এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাই এই খাতকে উৎসাহিত করতে করনীতি, অবকাঠামো এবং নীতিগত সহায়তার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। 

বৈঠকে ই-ক্যাব জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অফ সেক্রেটারিয়েট এস এস ইকরামুল হক বলেন, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ই-কমার্স খাতকে আরও সহায়ক নীতির আওতায় আনতে হবে। বর্তমানে কর জটিলতা, উচ্চ ভ্যাট এবং লজিস্টিক ব্যয়ের কারণে খাতটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছেন। তাই  ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন লজিস্টিকস ও ডেলিভারি সেবার ওপর কর রেয়াত দিলে খরচ কমবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে পণ্যের দামও সহনীয় থাকবে।

ই-ক্যাব থেকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সামনে পেশ করা প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ ই-কমার্সনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কর জটিলতা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাধার কারণে অনেকেই টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না। এ অবস্থায় স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করার আবশ্যক।  এছাড়া সীমান্তপার ই-কমার্স (ক্রস-বর্ডার ট্রেড) সহজ করতে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনার ওপর জোর দেয় ই-ক্যাব। তারা মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারলে দেশীয় উদ্যোক্তারা বৈদেশিক মুদ্রা আয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় উত্থাপিত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের ই-কমার্স খাত আরও গতিশীল হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিবিটেক/এসআই/এমইউআইএম