নগর স্বাস্থ্যসেবায় নতুন কাঠামো

এআই অ্যাপে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন কর্মীরা

  • এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী পাবেন এআইচালিত ডিজিটাল অ্যাপ
  • বাড়ি বাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ
  • নগর স্বাস্থ্যসেবা আসছে জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামোয়

এআই অ্যাপে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন কর্মীরা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২৮  

আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মী নিয়োগ করে তাঁদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক সমাজ সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত টেকসই যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকারবিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নগর স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সে সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে। ফলে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাইরে রেখে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ধারার অন্তর্ভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাস্তবতার নিরিখে।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বিদ্যমান ব্যবস্থার নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

নতুন কাঠামোয় স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর যৌথভাবে নগর স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানান তিনি।

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন এক লাখ কর্মীকে একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এই নতুন ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীদের হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও এআইচালিত ডিজিটাল অ্যাপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।

নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান ড. মুহিত।

একই সঙ্গে নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের আওতায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনগোষ্ঠীকে রাখা হবে।

নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন রূপরেখা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) দ্রুত চূড়ান্ত করার তাগিদ দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এমন একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর দেশের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।
//ডিবিটেক/এমভিও/এসএমই/এমআইএসটি//