যবিপ্রবিতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’: নৈতিক এআই ও রোবোটিকসে জোর

বিশ্বের ১৪ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ; ৫১৭টি গবেষণাপত্রের মধ্যে নির্বাচিত ১৪৫টি

  • যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘RAAICON 2026’।
  • বিশ্বের ১৪টি দেশের গবেষকদের জমা পড়া ৫১৭টি পেপারের মধ্যে কঠোর যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচিত হয়েছে ১৪৫টি গবেষণাপত্র।
  • সেমিকন্ডাক্টর ও শিল্পখাতে নৈতিক এআই, ডেটা নিরাপত্তা এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

বিশ্বের ১৪ দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণ; ৫১৭টি গবেষণাপত্রের মধ্যে নির্বাচিত ১৪৫টি
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৩  

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সাড়ম্বরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন "RAAICON 2026" (5th IEEE International Conference on Robotics, Automation, Artificial Intelligence and Internet of Things)। আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও আইইইই রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর এই সম্মেলনটি সরাসরি ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে জমা পড়া সর্বমোট ৫১৭টি গবেষণাপত্রের মধ্যে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৪৫টি পেপার উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গবেষণাপত্র গ্রহণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা সম্মেলনের উচ্চ গুণগত মান ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার কঠোর প্রতিফলন বহন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, রোবোটিকস, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর আলাদা কোনো বিষয় নয়, বরং এদের সমন্বিত রূপ আজ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষাসহ দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত যেকোনো উন্নয়ন অবশ্যই মানবজাতির কল্যাণে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব কেবল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করাই নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমাজের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থপূর্ণ উদ্ভাবনে রূপান্তর করা, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে আসবে। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে কি-নোট স্পিকার প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে কি-নোট স্পিকার হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে প্রেডিক্টিভ মেইনটেইন্যান্স ও টুলের ডাউনটাইম কমানোর জন্য এআই-চালিত অটোমেশন এর ওপর স্লাইড আকারে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. ইঞ্জি ইমরান খান, অর্গানাইজিং কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনটি দেশীয় গবেষকদের সাথে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধান বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

//ডিবিটেক/এনএইচজেএনইউ/এসএমই/এমআইএস//