প্রকৌশল শর্তে ছাড়ের প্রস্তাব
রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি
- পাঁচ বছর পুরোনো এবং ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ব্যাটারি সক্ষমতার ইভি আমদানির প্রস্তাব
- নিয়ন্ত্রিত আমদানিতে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং খাতে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়বে
- ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি বাস্তবায়নে আমদানি নীতি সংশোধনের দাবি
ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) খাতের প্রযুক্তিগত রূপান্তর, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার এ দাবি জানায় বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সুবিধা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সংগঠনটি এ আহ্বান জানায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, "গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের তুলনামূলক কম দামে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে।" তিনি জানান, নতুন ইভির দাম এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারও বাড়বে।
প্রকৌশল মানদণ্ড তুলে ধরে বারভিডা জানায়, বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আমদানি করা গাড়ির ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে কারিগরি বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মীবাহিনী তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্য অর্জনেও এটি ভূমিকা রাখবে। ব্যবহৃত ইভি ব্যাটারির নিরাপদ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও নিষ্পত্তির জন্য ‘ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও সেফ ডিসপোজাল ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়নসহ চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ও ব্যাটারি রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে শুল্ক-কর প্রণোদনা অব্যাহত রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, "নীতিমালায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি উন্মুক্ত রাখা হলেও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বৈষম্যমূলক। আমরা নতুন ও রিকন্ডিশন্ড দুই ধরনের ইভি আমদানির সুযোগ চাই। এতে ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন নাকি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি।" তিনি আরও বলেন, "সরকারের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে আমরা অংশীদার হতে চাই এবং আরও বেশি রাজস্ব দিতে চাই। তাই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করুন।"
বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু বলেন, "আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। এই শিল্পের জন্য আমাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে।"
আমদানি নীতির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের জোর দাবি জানান সংগঠনটির মহাসচিব রিয়াজুর রহমান। মানববন্ধনে বারভিডার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। দফতরগুলোর সমন্বয়ে নীতিমালার দ্রুত সংশোধন চেয়েছেন তারা।
//ডিবিটেক/জেএনও/এসএমই//এফওইটি//





