সামাজিক সংযোগ ও সুরক্ষামূলক প্রযুক্তির অভাবই মূল কারণ, তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও মেন্টরশিপের তাগিদ

প্রতিকূলতায় ৭২% মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে: মেটলাইফের গবেষণায় প্রযুক্তিবান্ধব নেটওয়ার্কের তাগিদ

মেটলাইফের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। এই সংকট কাটাতে শক্তিশালী সামাজিক সংযোগ, প্রযুক্তিবান্ধব নেটওয়ার্ক, শৈশব থেকে খেলাধুলা এবং মেন্টরশিপের ওপর জোর দিয়েছেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা আহমদ।

প্রতিকূলতায় ৭২% মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে: মেটলাইফের গবেষণায় প্রযুক্তিবান্ধব নেটওয়ার্কের তাগিদ
৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৮  

মেটলাইফের নতুন একটি বহুজাতিক গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্কদের “আত্মবিশ্বাস ঘাটতির” এক চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ নিজেদেরকে যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার মতো সহনশীল মনে করলেও বাস্তব জীবনে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে তাদের আত্মবিশ্বাস ৭২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতন ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিবান্ধব সামাজিক নেটওয়ার্ক ও সুরক্ষামূলক কানেক্টিভিটি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং মেক্সিকোতে পরিচালিত “দ্য কনফিডেন্ট পাথওয়েজ রিপোর্ট”–এর লক্ষ্য ছিল মানুষের আত্মবিশ্বাস কীভাবে গড়ে ওঠে এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কীভাবে তা টিকে থাকে, তা বোঝা। গবেষণার ফলাফল দেখায় যে সুযোগ, প্রস্তুতি এবং একটি আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব সহায়ক পরিবেশ আত্মবিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিবেদনটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলা আহমদ বলেন, “চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে যখন বিশ্বের মানুষ একত্রিত হয়েছে, তখন এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব কতটা গভীর। দলগত কাজ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ়তা শেখায় খেলাধুলা, যা জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার ফলাফল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ তরুণ এবং ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি তরুণ-তরুণী দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। আলা আহমদ আরও বলেন, “বাংলাদেশে তরুণদের সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকশিত করতে কম বয়স থেকেই খেলাধুলা, আধুনিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল মেন্টরশিপের সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত করা জরুরি। মেটলাইফ বাংলাদেশে আমরা আরও ভালো আর্থিক প্রস্তুতি এবং সুরক্ষার ডিজিটাল সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ:

  • প্রতিকূলতায় আত্মবিশ্বাস হ্রাস: বাস্তব জীবনের আর্থিক, মানসিক বা ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মুখে ৭২ শতাংশ মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। অনেকেই নিজেদের দৃঢ়চেতা মনে করলেও বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কম মানুষ আত্মবিশ্বাসী বোধ করেন।

  • সহায়ক সামাজিক ও প্রযুক্তিবান্ধব নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা: অর্ধেকেরও কম মানুষ বন্ধুদের (৪১%) অথবা নিজেদের কমিউনিটির (৩১%) কাছ থেকে সমর্থন পান বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট ও আধুনিক প্রযুক্তিবান্ধব সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা দ্রুত সময়ে যেকোনো বিপর্যয় বা মানসিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

  • শৈশবের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘস্থায়ী আত্মবিশ্বাস: শৈশবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, এটি তাদের আত্মবিশ্বাস (৫৬%) এবং অধ্যবসায় (৫২%) বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে অভিভাবকেরাও খেলাধুলা ও মেন্টরশিপ কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।

  • আর্থিক প্রস্তুতি: যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সঞ্চয় বা জীবনবিমা গ্রহণের মতো সক্রিয় আর্থিক পদক্ষেপ নেন, তারা বিপর্যয় মোকাবিলায় অন্যদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সম্ভাবনাসম্পন্ন।

যখন ফুটবল বিশ্বব্যাপী মানুষ ও সম্প্রদায়কে একত্রিত করছে, তখন এই গবেষণা আরও দেখায় যে কম বয়স থেকে খেলাধুলা ও শিক্ষা মানুষের দৃঢ়তা গড়ে তোলে। খেলাধুলায় অংশগ্রহণ তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়ায়, যা আরও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

//ডিবিটেক/আরআরএফ/এমআই//