সেবাশুল্ক ছাড়াই একপেতে সব ফি পরিশোধ
যবিপ্রবিতে চালু ক্যাশলেস ফি
- যবিপ্রবিতে চালু হলো সেবাশুল্কবিহীন স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল অর্থ পরিশোধ
- মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কার্ডে ফি দেওয়া যাবে
- ই-রসিদ তৈরি হয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো ধরনের সেবাশুল্ক ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ণাঙ্গ নগদবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্যের কার্যালয়ে একপে অর্থ পরিশোধ দ্বারের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমাতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই অগ্রগামী। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার ফি ও পেমেন্ট সেবা কোনো সার্ভিস চার্জ ব্যতীত ডিজিটাল অটোমেশনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এর মাধ্যমে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ হলো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলো। শিক্ষার্থীবান্ধব ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাশলেস ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রযুক্তিবান্ধব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
ডিজিটাল স্বয়ংক্রিয় অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা নিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচানো এবং তাদের ক্যাম্পাস জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করা। সকল পেমেন্টে ডিজিটাল অটোমেশন চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আর ফি জমা দেওয়ার জন্য সময় নষ্ট করে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই এক ক্লিকে যেকোনো ফি পরিশোধের এই সুবিধা শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। একই সাথে এর মাধ্যমে প্রশাসনিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা তৈরি হলো।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আর্থিক কার্যক্রমে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতেই আমরা এই ডিজিটাল অটোমেশন পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করেছি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবস্থাপনা যেমন আরও সুসংহত ও নিরাপদ হবে, তেমনি ভাউচার বা চালানের মতো প্রথাগত কাগজের ব্যবহার কমে আসবে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকিং রিপোর্ট তৈরি ও হিসাব হালনাগাদ করা সম্ভব হবে। অর্থ ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যবিপ্রবিকে দেশের একটি ডিজিটাল সুবিধা সম্বলিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার ফি, মাইগ্রেশন সনদ ফি, পাঠদানের মাধ্যমের সনদ ফি, প্রশংসাপত্র ফি, কোর্স নিবন্ধন ফি, কেন্দ্রীয় নিবন্ধনের বিলম্ব ফি, ভর্তি ফি, ফলপত্র ফি, পূর্ণাঙ্গ নম্বরপত্র ফি, সাময়িক সনদ ফি, আবাসিক হলের বিভিন্ন ফি এবং গ্রন্থাগার-সংশ্লিষ্ট ফিসহ অন্যান্য অর্থ কোনো সেবাশুল্ক ছাড়াই পরিশোধ করতে পারবেন।
অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের ভর্তি ফিও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব ফি পরিশোধ করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীর হিসাবে ই-রসিদ জমা হবে এবং তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।
এর ফলে প্রচলিত ব্যাংকনির্ভর ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ ও তহবিল ব্যবস্থাপনা আরও স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
//ডিবিটেক/এনএইচজেএন/বিপিও//





