ঢাকায় ৫ লাখ গাড়ির সিলিং নির্ধারণ ও পৃথক লো-স্পিড লেনের প্রস্তাব; ২২ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের ডাক

বুয়েটের ডিজাইনে অটোরিকশার আধুনিকায়নসহ মালিক-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি

  • বুয়েট প্রস্তাবিত নিরাপদ বডি, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও ফিটনেস সনদের ভিত্তিতে অটোরিকশা আধুনিকায়নের জোর দাবি
  • ডিএনসিসি ও ডিএসসিসিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করে রাজধানীতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ অটোরিকশার লাইসেন্স নির্ধারণের সুপারিশ
  • দাবি আদায়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা

বুয়েটের ডিজাইনে অটোরিকশার আধুনিকায়নসহ মালিক-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৪  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নকশা অনুযায়ী নিরাপদ বডি, আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম এবং ফিটনেস সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি এস এম আবু বকর জানান, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কোটি সাধারণ যাত্রীর যাতায়াত এই বাহনের ওপর নির্ভরশীল। শহরের যানজট নিরসনে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, মহানগরের ৮ থেকে ১৩টি প্রবেশমুখ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বহিরাগত অটোরিকশা ঢাকায় প্রবেশ করে আবার সন্ধ্যায় ফিরে যায়; এসব দূরবর্তী পয়েন্টে অযাচিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে বুয়েটের ডিজাইনে কারিগরি আধুনিকায়নের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে অটোরিকশার বাণিজ্যিক লাইসেন্স, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ও রুট পারমিট চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া চালকদের ট্রাফিক সচেতনতায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা এবং বিদ্যমান আট জোনের বদলে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসিভিত্তিক সমন্বিত কাঠামোয় রাজধানীতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ অটোরিকশার প্রাতিষ্ঠানিক সিলিং নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

নিরাপদ পরিচালন ও অবকাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, প্রতিটি চার্জিং গ্যারেজে ‘ডি-৩’ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগসহ স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকারের রাজস্ব আদায় সুগম হয় এবং পরিবেশের সুরক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির রূপান্তর ঘটাতে হবে। দ্রুতগতির বাহনের সাথে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড সার্ভিস লেন’, হাইওয়ের সংযোগস্থলে প্লাস্টিক বা কংক্রিটের ডিভাইডার এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ওভারপাস নির্মাণের প্রস্তাব দেন তারা। একই সাথে বাহনটিকে সড়ক পরিবহন আইনের পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর আওতায় এনে ট্রাফিক নজরদারি নিশ্চিত করা, চালক-মালিকদের ওপর সব ধরনের পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি ও নির্বিচার ডাম্পিং বন্ধ করা এবং নগর পরিবহন নীতি নির্ধারণে অটোরিকশা প্রতিনিধিদের সরাসরি অংশগ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. সাইদুল মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম।

//ডিবিটেক/ ডিপিও/এসএমই/বিপিও//