শিনলিয়ান ইলেকট্রনিকসের বিরুদ্ধে ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য গোপনের প্রমাণ পেল ভ্যাট ঢাকা (পশ্চিম)

ধামরাইয়ে লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন

  • ধামরাইয়ের নবগ্রামে শিনলিয়ান ইলেকট্রনিকস টেকনোলজিতে অভিযান চালিয়ে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার মূসক ফাঁকি শনাক্ত করেছে ঢাকা (পশ্চিম) কমিশনারেট
  • প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিক্রয় এবং ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্রয় তথ্য গোপন করেছে
  • ব্যাটারি তৈরির পাশাপাশি অনুমোদনহীনভাবে আমদানিকৃত চার্জার, হেডফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইস মজুদ ও সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে

ধামরাইয়ে লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৭  

লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক হিসেবে নিবন্ধিত একটি প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। ধামরাইয়ের নবগ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানা থেকে পণ্য ও কাঁচামাল ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে এ রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা (পশ্চিম) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের নির্দেশনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের নবগ্রামে অবস্থিত ‘শিনলিয়ান ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড’-এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নিবন্ধন (বিআইএন) নম্বর ০০৭৫৪৫৫৫৯-০৪০৪।

অভিযানকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি খাতাকলমে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদক হিসেবে নিবন্ধিত হলেও কারখানায় প্রস্তুত করা ব্যাটারি ও কাঁচামালের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের তারযুক্ত হেডফোন এবং ব্লুটুথ হেডফোন সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। অভিযানে প্রাথমিক অসংগতি পাওয়ায় বিস্তারিত অনুসন্ধানের স্বার্থে মূসক-১২.৩ ফরমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক দলিলাদি ও রেজিস্টার খাতা জব্দ করে নিরীক্ষা দল।

পরবর্তীতে জব্দকৃত নথিপত্র এবং ইনভয়েস পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকার প্রকৃত বিক্রয় তথ্য সংশ্লিষ্ট ভ্যাট সার্কেলে প্রদর্শন না করে গোপন করেছে। এর বিপরীতে অপরিশোধিত মূসক ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকা। এছাড়া ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকার ফিনিশড প্রডাক্ট ও কাঁচামাল ক্রয়ের তথ্য গোপন করায় আরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকার মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই খাতে মোট ফাঁকিকৃত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ফাঁকিকৃত সরকারি রাজস্ব আদায় এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূসক ও শুল্ক আইনের আওতায় দ্রুত আইনানুগ ও বিভাগীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
//ডিবিটেক/ এনপিবি/বিপিও/এমএসআই//