৬৩০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ; গবেষণা, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম গ্র্যাজুয়েট তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ।
বুটেক্সে ৫২তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন, দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী গড়ার ওপর জোর
- দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির ওপর জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী।
- গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য তুলে ধরেন উপাচার্য।
- আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র ও টেক্সটাইল ক্যাডার চালুর প্রস্তাব এমপি সানজিদা ইসলাম তুলির।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের লেভেল-১, টার্ম-১-এর ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ জুলাই, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৬৩০ নবীন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইইবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) এবং আইটিইটির নবনির্বাচিত সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে দক্ষ টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরির বিকল্প নেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেক্সটাইল খাতকে আরও শক্তিশালী করতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ভবিষ্যতে তারাই দেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের নেতৃত্ব দেবে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মান উন্নয়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় মিডডে মিল, বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, ২০২৭ সালের কারিকুলাম পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালের নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। শিক্ষাজীবনে সময়ের অপচয় কমিয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। বুটেক্সের স্নাতকরা এ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বুটেক্সে একটি আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নেতৃত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বুটেক্সের লক্ষ্য শুধু দেশের শিল্পখাতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সক্ষম Global Graduate তৈরি করা। এ লক্ষ্যে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্ব দিচ্ছে।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা, উদ্ভাবন, সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্যাম্পাসের নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
//ডিবিটেক/এনডি/ইকে//





