বাড়ছে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার 

দেশে মোবাইল ও স্মার্টফোনভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ছে

  • ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার এক বছরে ৮২.৯% থেকে একলাফে ৮৯.৬% এ উন্নীত
  • বাসাবাড়িতে ওয়াইফাই/ইন্টারনেট সংযোগ সামান্য কমলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়ে হয়েছে ৫৯.২%
  • , পরিবার পর্যায়ে স্মার্টফোন ও টেলিভিশনের ব্যবহার বাড়লেও রেডিও, ফিক্সড ফোন ও কম্পিউটারের উপস্থিতি কমেছে

দেশে মোবাইল ও স্মার্টফোনভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৩  

দেশের পরিবার ও ব্যক্তিপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও মালিকানার ধরনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে। ড্রয়িংরুমে টেলিভিশন ও ইন্টারনেট সংযোগের পাশাপাশি হাতে স্মার্টফোনের বিস্তার ঘটলেও পুরোনো কিছু প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার উপস্থাপিত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনামূলক তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবারের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৭৪ দশমিক আট শতাংশ পরিবারের স্মার্টফোন থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক এক শতাংশ, যা এক বছরে শূন্য দশমিক তিন শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে ঘরে টেলিভিশনের উপস্থিতি ৫৯ দশমিক এক শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ দশমিক এক শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রায় সব পরিবারেই মোবাইল ফোনের উপস্থিতি থাকায় এ সূচকটি ৯৯ শতাংশেই অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে পুরোনো প্রযুক্তির ব্যবহার বা উপস্থিতিতে বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে। পরিবারে রেডিওর উপস্থিতি ১৬ দশমিক তিন শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক তিন শতাংশে নেমেছে। একইভাবে ফিক্সড ফোনের হার শূন্য দশমিক নয় শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ হয়েছে এবং কম্পিউটার থাকা পরিবারের হারও নয় দশমিক দুই শতাংশ থেকে সামান্য কমে নয় দশমিক এক শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তির সামগ্রিক ব্যবহার বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগের সূচকে কিছুটা পতন দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ৫৯ দশমিক সাত শতাংশ পরিবারের ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৫৮ দশমিক দুই শতাংশ। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। একই সময়ের তুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৯ দশমিক দুই শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ব্যক্তিপর্যায়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটেছে মোবাইল ফোন ব্যবহারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ছিল ৮২ দশমিক নয় শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে ৮৯ দশমিক ছয় শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে ছয় দশমিক সাত শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া মোবাইল ফোনের মালিকানার হারও ৬৪ দশমিক দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ দশমিক ছয় শতাংশে উঠেছে। একই সময়ে কম্পিউটার ব্যবহারকারী ব্যক্তির হার ১১ দশমিক ছয় শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১১ দশমিক আট শতাংশ হয়েছে। সার্বিক এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের ডিজিটাল জীবনে প্রচলিত ডিভাইসের জায়গা ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে মোবাইল ফোন ও স্মার্টফোনভিত্তিক প্রযুক্তি।

//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমই/এমআইএসটি//