ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তিতে অনলাইন বক্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি নজরদারি
ভারতে শেখ হাসিনার ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং ও ভার্চুয়াল তৎপরতা
- ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ফেসবুক ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে শেখ হাসিনা একাধিক বার্তা ও ভাষণ দিয়েছেন
- ভারতে পলায়নের দুই বছর পূর্তিতে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে নিজস্ব উদ্যোগ বলছে নয়াদিল্লি
- আদালতের নির্দেশনায় দেশে প্রচার নিষিদ্ধ, বিটিআরসি সজাগ এবং নাশকতার শঙ্কায় কড়া নজরদারি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। দেশে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছাতে ও স্তিমিত কর্মী বাহিনীকে চাঙ্গা রাখতে অনলাইন মাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকারী সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশত্যাগের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল মাধ্যমে তৃণমূল ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির এক বছর পূর্তিতে প্রচারিত অনলাইন বিশেষ ভাষণসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি অডিও বার্তা প্রচার করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি অনলাইনেই সমন্বয় করছেন। ভারতের সংসদে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ভারতের মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টের নির্দেশে শেখ হাসিনার ঘৃণা ছড়ায় এমন যেকোনো বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণায় বিটিআরসি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভার্চুয়াল বক্তব্যে কেবল অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হওয়ায় এবং সরাসরি কোনো সচল ভিডিও বা সাম্প্রতিক ছবি না আসায় জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছেন, প্রচারিত বার্তাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা কি না। ট্রাইব্যুনালে রায় ও মামলা প্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও আসামিপক্ষ থেকে কোনো আইনি আপিল না করা এই সংশয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বেনামী অনলাইন পেজ ও গ্রুপ ব্যবহার করে দেশে নানা সময়ে ঝটিকা মিছিল, ভার্চুয়াল প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং বিক্ষোভের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও নাশকতামূলক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ডিজিটাল নজরদারি বাড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে একটি অডিও/ডিজিটাল সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে। এফসিসি সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ নিশ্চিত করেছেন যে, ভার্চুয়াল এই সেশনে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর ছেলে ও সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ একাধিক ব্যক্তি ডিজিটাল সংযোগে উপস্থিত থাকছেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনায় দেশে শেখ হাসিনার যেকোনো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা উসকানিমূলক বার্তা প্রচার ও প্রকাশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, কোনো গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্য প্রচার করা হলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে। বিটিআরসি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মনিটর করছে এবং যেকোনো উসকানিমূলক কনটেন্ট ব্লক করার ব্যবস্থা নিয়েছে। মূলত ভার্চুয়াল বার্তা দেওয়ার পর থেকে দেশে ঝটিকা মিছিল, নাশকতার চেষ্টা এবং বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনার পটভূমিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখছে।
//ডিবিটেক/ এসআই/ এসএমই//





