সফটওয়্যার পর্যালোচনায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও শূন্য অডিট
- প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার আধুনিকায়ন ও সমন্বিত ডিজিটাল সংযোগ চালুর উদ্যোগ
- সরকারি আর্থিক ক্রয়বিধি পিপিআর মেনে অডিট আপত্তি শূন্যে নামানোর কঠোর নির্দেশনা
- আর্থিক শৃঙ্খলা ও ডেটাভিত্তিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার জোর আহ্বান
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সমন্বিত ডেটা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সংযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও বিদ্যমান সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম পর্যালোচনার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার), ইউজিসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানান, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ তৈরির কাজ চলছে এবং বিদ্যমান সফটওয়্যার পর্যালোচনা করে এতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে। এ সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অডিট আপত্তির সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো নির্দেশনা দেন তিনি।
পুরোনো অডিট আপত্তি ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন কোনো আপত্তি যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর অডিট আপত্তি বাড়ছে এবং এ বছর বৃদ্ধির হার বিগত বছরের চেয়েও বেশি। বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়। তাই পুরোনো আপত্তি কমিয়ে শূন্য অডিট আপত্তিতে পৌঁছানোই কমিশনের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা (পিপিআর) এবং আর্থিক নীতিমালা যথাযথভাবে না মানাই এসব আপত্তির মূল কারণ। এজন্য ক্রয়কাজে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিআর বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও সচেতন করার তাগিদ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংজ্ঞাগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক স্বাধীনতা থাকা উচিত হলেও বাস্তবতায় তারা মূলত একাডেমিক স্বাধীনতাই ভোগ করে। সরকারি অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলার সক্ষমতার ওপরই আর্থিক স্বাধীনতা নির্ভর করে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউজিসি কোনো নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে, যাতে স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি নিয়মের সমন্বয় ঘটে। এছাড়া জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কাঠামোর অতীত জটিলতা নিরসন করে ভবিষ্যতে জোরালো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন তিনি। ২০২৩ সালে অনুমোদিত নিয়োগ ২০২৬ সাল পর্যন্ত সম্পন্ন না হওয়াকে তিনি পূর্ববর্তী যাচাইয়ের ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে জানান, আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা দৃশ্যমান হলে অর্থায়ন কোনো সংকট হবে না।
কর্মশালার সভাপতি ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন জানান, দেশে অনুমোদিত ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৭টির কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং এই কর্মশালা সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক। ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অর্থ-হিসাব বিভাগের পরিচালকরা এতে অংশ নেন। বিষয়ভিত্তিক সেশন পরিচালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও মো. হাফিজুর রহমান।
//ডিবিটেক/জেআরপি/এসএমই/এমআইএস//





