এআই সমালোচকদের ‘নেতিবাচক শক্তি’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

এআই সমালোচকদের ‘নেতিবাচক শক্তি’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৯  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির লাগাম টানা বা এর বিকাশ শ্লথ করার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এআই সমালোচকদের ‘অত্যন্ত নেতিবাচক শক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ কোর্সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো মূল্যে এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শীর্ষস্থান ধরে রাখা নিশ্চিত করতে চান তিনি। 

চীনকে হারিয়ে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, "এআই খাতে যারা জয়ী হবে, তারাই আসলে বিশ্বমঞ্চে চূড়ান্ত বিজয়ী হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন বা ‘গার্ডরেল’ তৈরি করা যেতেই পারে, তবে কিছু নেতিবাচক গোষ্ঠী এমন সব অলীক ও কাল্পনিক আশঙ্কার কথা তুলছে যা বাস্তবে কখনোই ঘটবে না। 

বিপদের চরম সতর্কতা ও প্রযুক্তির লাগাম টানার উদ্যোগ
ট্রাম্পের এই কঠোর মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রে এআই-এর সম্ভাব্য চরম ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সম্প্রতি এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের দুই শীর্ষ গবেষক সতর্ক করে দেন যে, অনিয়ন্ত্রিত গতিতে প্রযুক্তি উন্নত হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

এই উদ্বেগের জেরে পদত্যাগ করা গবেষক জেকব কক্সন আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের তাগিদ দিয়ে জানান, চীনের সাথে প্রতিযোগিতার নামে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া এআই-এর দ্রুতগতির দৌড়ে নামা অত্যন্ত বিপজ্জনক। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোদেই এআই বিকাশের গতি কিছুটা ধীর করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সময় তৈরির জন্য একটি ত্রিমাত্রিক রূপরেখা প্রস্তাব করেন, যাতে সমর্থন জানিয়েছেন এক্সএআই-এর ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। 

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিবান্ধব নীতি গ্রহণ করে আসছে এবং শিল্পটির শীর্ষ নির্বাহীরাও তার নীতিকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন, যার মধ্যে ইলন মাস্কের 'আমেরিকা প্যাক' ভোটারদের মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। 

তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বৈশ্বিক এআই বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট ‘স্পিড লিমিট’ বা গতির সীমা নির্ধারণ করা কতটা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। 

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিপক্ষ দেশ যাতে সামরিক সুবিধা নিতে নিয়মের সুযোগ না নেয় তা শতভাগ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: রয়টার্স