প্যাসিভ লোকেশন ট্র্যাকিং ও দ্রুত অনুসন্ধানের তাগিদ সাইবার বিশেষজ্ঞের

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে শুধু বিটিএস যথেষ্ট নয়: ২৪ ঘণ্টার ‘মিসিং চাইল্ড রেসপন্স ইউনিট’ চান তানভীর জোহা

  • “বিটিএসের ঠিকানা মোবাইল ফোনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নয়; শহর বা গ্রামে অনুসন্ধানের বিশাল এলাকা নির্ধারণে 'প্যাসিভ লোকেশন' ট্র্যাকিং জরুরি।”
  • “শিশুদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টার বিশেষায়িত ‘মিসিং চাইল্ড রেসপন্স ইউনিট’ গঠন করতে হবে, যেখানে প্রথম কয়েক ঘণ্টাই অত্যন্ত মূল্যবান।”
  • “প্রযুক্তি থাকা আর সময়মতো সঠিক ব্যবহার এক নয়; অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপেক্ষ ‘টেকনিক্যাল আফটার-অ্যাকশন রিভিউ’ প্রয়োজন।”
    নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে শুধু বিটিএস যথেষ্ট নয়: ২৪ ঘণ্টার ‘মিসিং চাইল্ড রেসপন্স ইউনিট’ চান তানভীর জোহা
    ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৩  

    কুমিল্লায় কুবির শিক্ষকের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সীমাবদ্ধতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি উল্লেখ করেছেন, কেবল বিটিএস (BTS) ঠিকানার ওপর নির্ভর না করে নেটওয়ার্ক ইভেন্ট ও ‘প্যাসিভ লোকেশন’ ট্র্যাকিং ব্যবহার করলে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে সাফল্যের হার বাড়ানো সম্ভব।

    তানভীর হাসান জোহা বলেন, “আমাদের দেশে মোবাইল ট্র্যাকিং বলতে অনেক ক্ষেত্রেই একটি BTS বা মোবাইল টাওয়ারের ঠিকানা সংগ্রহ করাকে বোঝায়। কিন্তু একটি টাওয়ারের ঠিকানা কখনোই মোবাইল ফোনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নয়। এটি কেবল জানায়, নির্দিষ্ট সময়ে ফোনটি কোন সেল বা টাওয়ারের আওতায় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “একটি BTS শহরে কয়েক শ মিটার এবং গ্রামে কয়েক কিলোমিটার এলাকা কভার করে। ফলে শুধু BTS-এর ঠিকানা নিয়ে মাঠে গেলে পুলিশকে বিশাল এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে হয়।”

    প্যাসিভ লোকেশনের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে তিনি মন্তব্য করেন, “ফোন ব্যবহারকারী কল না করলেও ফোনটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ডিজিটাল সংকেত আদান-প্রদান করে। CDR-এর বাইরে গিয়ে packet data session, cell update, handover এবং last-seen cell রেকর্ড বিশ্লেষণ করে ফোনটির movement trail তৈরি করা সম্ভব।”

    ঘটনাটির প্রযুক্তিগত তদন্তের ঘাটতি চিহ্নিত করতে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ঘটনায় একটি technical after-action review প্রয়োজন। সেখানে দেখা দরকার নিখোঁজ হওয়ার কতক্ষণ পর পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে, কখন নেটওয়ার্ক ইভেন্ট চাওয়া হয়েছে এবং CCTV, যানবাহনের রুট ও মোবাইল লোকেশন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল কি না।”

    নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে বিশেষায়িত দল গঠনের দাবি জানিয়ে তানভীর জোহা জোর দিয়ে বলেন, “পুলিশের মধ্যে একটি ২৪ ঘণ্টার বিশেষায়িত 'Missing Child Response Unit' গঠন করা প্রয়োজন। প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে মূল্যবান। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দপ্তরের অনুমতি ও কাগজের অপেক্ষায় মূল্যবান সময় নষ্ট হবে না।” তিনি যুক্ত করেন, “প্রযুক্তি থাকা আর প্রযুক্তিকে সময়মতো সঠিকভাবে ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর জন্য প্রথম মুহূর্ত থেকেই সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ও সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।”
    //ডিবিটেক/ এসএডি/এনএইচটি/বিপিও//