ধাপে ধাপে বাড়বে ফ্লাইট কার্যক্রম
১৬ ডিসেম্বর চালু তৃতীয় টার্মিনাল
- ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু
- সক্ষমতা বাড়বে প্রায় চার গুণ
- রাজস্ব অংশ বেড়েছে ২৭ শতাংশ
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রযুক্তিগত ও পরিচালন কার্যক্রম ধাপে ধাপে শুরু হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে টার্মিনালটি চালু হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও পরে ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বাড়বে এবং সর্বোচ্চ ২৫০টি উড়োজাহাজ পরিচালনার অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হবে।
৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী জানান, ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালের সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে এবং পরে ধাপে ধাপে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার পর প্রকল্পের রাজস্বে বাংলাদেশের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। টার্মিনালটি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে নির্মিত হওয়ায় রাজস্বের অংশ বাড়ানোকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে লাগেজ ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ অবতরণের ১৫ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে।
তৃতীয় টার্মিনালের ৫০ শতাংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে বলেও জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর আশা, আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত যাত্রীসেবার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
পরিদর্শনের সময় বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অর্থায়নের মধ্যে সরকার দিয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ জাইকার ঋণ থেকে এসেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। তবে পরিচালনা, যন্ত্রপাতি সংযুক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সরকারের লক্ষ্য ১৬ ডিসেম্বর সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় টার্মিনালকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে নেওয়া। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও উড়োজাহাজ পরিচালনা সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
//ডিবিটেক/জেএনইউ/এসএমই/এমআইএস//





