তরুণদের কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন
নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ
- পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের মোবাইল হার্ডওয়্যার মেরামত ও ত্রুটি শনাক্তকরণে প্রশিক্ষণ
- তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হলো সার্ভিসিং টুলস
- পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির উদ্যোগ
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে ‘মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ-২০২৬’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে নানিয়ারচর জোন সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়, যা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। নানিয়ারচর জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, পিএসসি-এর দিকনির্দেশনায় জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রশিক্ষণে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মৌলিক স্থাপত্য, স্মার্টফোনের সার্কিট ও যন্ত্রাংশের বিভিন্ন ত্রুটি শনাক্তকরণ, হার্ডওয়্যার মেরামত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আধুনিক ডায়াগনস্টিক টুলস ব্যবহারের ওপর গভীর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে মোবাইল ফোন শিক্ষা, ব্যবসা ও যোগাযোগের অপরিহার্য মাধ্যম। ফলে মোবাইল মেরামতের মতো ব্যবহারিক কারিগরি দক্ষতা তরুণদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম বলেন, "শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তরুণদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় পারদর্শী করার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণদের যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করায় পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও জোরদার হবে।"
এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সকল প্রশিক্ষণার্থীকে নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মোবাইল সার্ভিসিং টুলকিট এবং সহায়ক ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণে এবং কোর্স শেষে স্বাধীনভাবে সার্ভিসিং ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে কার্যকর অবদান রাখবে।
//ডিবিটেক/এসএইচএস/এসই/ইআইসি//





